সংসদে আবেগঘন বক্তব্য হাসনাতের, ১০ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে চাইলেন ‘ভিক্ষা’

আলোর মিছিল ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় সংসদে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের ভয়াবহ অবস্থা ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সড়ক আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই কবে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে এবং এই মহাসড়ককে এটা লাইন অফ ক্রেডিটের আন্ডারে ছয় লেনে হওয়ার কথা থাকলেও এটা মাত্র ১৮ ফিট হয়ে আছে। মাননীয় স্পিকার এটা আমি এলাকায় মুখ দেখাইতে পারি না, এলাকার মানুষ আমাকে এখন বেঁধে রাখবে।
তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে মন্ত্রী মহোদয়কে যদি আপনি একটা রুলিং দিতেন যেন উনি যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেন। আপনি এখন যে মুহূর্তে আমাকে অনুমতি দিয়েছেন কথা বলার জন্য ঠিক সেই মুহূর্তে আমার দেবীদ্বারে তিনজন তরতাজা মানুষ কিছুক্ষণ আগে মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের এখন জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি দেবীদ্বারের প্রতিনিয়ত ঘটনা।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো সড়ক নেই যা দুটি বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করেছে কিন্তু সেই রাস্তার প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফিট। মাননীয় স্পিকার আমি কুমিল্লা এবং সিলেট মহাসড়কের কথা বলছি।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা এবং সিলেট মহাসড়ক যেটা ময়নামতি, দেবীদ্বার, জাফরগঞ্জ, কংশনগর হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া কুটি পর্যন্ত গিয়েছে—এই রাস্তাটা একটি মহাসড়ক। যে রাস্তা দিয়ে ১০ লক্ষ মানুষের যাতায়াত এবং যেটা দুইটা উপজেলাকে—ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং এবং দেবীদ্বারকে সংযুক্ত করেছে। চট্টগ্রাম থেকে যদি সিলেটে যেতে হয় অথবা সিলেট থেকে যদি চট্টগ্রামে আসতে হয়—একমাত্র রাস্তা এটি, যেটা মাত্র ১৮ ফুট। এই ১৮ ফুট রাস্তা দিয়ে প্রত্যেকদিন এটা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে। দেবীদ্বার–বুড়িচং অংশটা প্রত্যেকদিন মৃত্যুর মিছিল।
তিনি বলেন, কেবল এই মাসেই ২৩ জন মানুষ এই সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। মাননীয় স্পিকার, আমরা যখন মন্ত্রী মহোদয় বা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলি তখন বলা হয়, এটি প্রশাসনিক জটিলতা। কিন্তু আজ দীর্ঘ ১০–১২ বছর ধরে এখানে কোনো ধরনের কাজ হচ্ছে না।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চিত করবেন কি—কবে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে এবং এই মহাসড়কের কাজ শুরু হবে? এই মহাসড়ক লাইন অফ ক্রেডিটের আন্ডারে ছয় লেনে হওয়ার কথা থাকলেও এখনো মাত্র ১৮ ফুট হয়ে আছে। এটা আমি এলাকায় মুখ দেখাইতে পারি না। আমাকে এখন বেঁধে রাখবে।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে মন্ত্রী মহোদয়কে যদি আপনি একটা রুলিং দিতেন এই বিষয়ে যেন উনি যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেন। আমি ভিক্ষা চাই এই সংসদের কাছে—এই রাস্তাটা ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে। মাননীয় স্পিকার আমি আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই এই রাস্তাটাকে প্রশস্তকরণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
আলোর মিছিল ডেস্ক রিপোর্ট/আ/উ
Source: thedailycampus.com






