News

অভিযোগ দিলেই টার্গেট করত ‘কুত্তা শ্রাবণ’ গ্যাং

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ এবং তার তিন সহযোগীকে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।

ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক জানান, কুত্তা শ্রাবণ ও তার বাহিনী কোনো ব্যক্তি যদি তার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিত, তবে তাকেই সরাসরি টার্গেট বানিয়ে হামলা করা হতো। অভিযোগের খবর পেলে সে বাদীর বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালাতো এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম বা পঙ্গু করে দিতো।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় মামলা করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করেছিল তারা। আমেনা বেগম নামের এক নারী মামলা করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এমনকি গত মে মাসে এক ফল ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছিল। তার এই তাণ্ডবের ভয়ে সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দিতে সাহস পেত না।

মাসুদ পারভেজ জানান, কুত্তা শ্রাবণের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ ও আশেপাশের থানায় মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘নাদিম অপহরণ’ মামলারও সে ১ নম্বর প্রধান আসামি। ওই অঞ্চলে মূলত চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল তার প্রধান কাজ। ২০২৪ সালেও যৌথ বাহিনীর অভিযানে সে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কিন্তু প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

এসআরবি জানায়, রূপগঞ্জের দুটি প্রধান কিশোর গ্যাং গ্রুপের একটি পরিচালনা করতো কুত্তা শ্রাবণ, অন্যটি নবী গ্রুপ। এই বাহিনীর অধীনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় ছিল, যারা তাকে নিজেদের আইডল মনে করতো। গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রাবণ কখনোই এক স্থানে অবস্থান করতো না; একেক রাতে একেক এলাকায় আত্মগোপন করে থাকতো।

এ দিকে, বর্তমানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কঠোর করতে গ্রেপ্তার অভিযানে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়ার নতুন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় এসআরবি।

source: Asia Post

Back to top button