অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, নিহত ৮

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও সড়ক। বিপুল পরিমাণ গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। তছনছ হয়েছে কৃষিজমি। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়ে অর্ণব। উপকূল অতিক্রম করার সময় এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা দমকা হাওয়া আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ইয়ানামের দক্ষিণ-পশ্চিমে নরসাপুরের প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব ও উত্তরপূর্বে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশ সম্পন্ন হয়। পরে এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তি হারিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর নেই বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তবে পরে তিনি পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানান। টাইমস অব ইন্ডিয়া অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।
নাইডু বলেন, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও আজ কয়েকজন মারা গেছেন। আমরা সবাইকে সতর্ক করে আসছিলাম; কেউ সহযোগিতা করেছেন, কেউ অবহেলা করে বাইরে বেরিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে এরই মধ্যে সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইডু।
-0a1435.jpg)
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয়। প্রায় ১৫ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু কোনাসিমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলাতেই প্রায় ৫০ হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে; যার মধ্যে কোনাসিমায় নারকেল গাছই পড়েছে প্রায় ৩৩ হাজার। ধানখেতের ফসল মাটিতে লুটিয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারকেলসহ বিভিন্ন উদ্যান ফসল।
এনডিআরএফের কর্মকর্তা নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত ৩১টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৩৯টি এনডিআরএফ দল মোতায়েন ছিল।
স্থানীয় পুলিশও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে। কাকিনাড়ার এসপি জি বিন্দু মাধব বলেন, জেলায় কয়েক শ গাছ ও ১০০টির কম বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। উপ্পাদা উপকূলীয় সড়কটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে।
কোনাসিমার এসপি রাহুল মীনা জানান, ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগের বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে সড়ক বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। অলুরি সীতারামারাজু জেলার এসপি অমিত বারদার জানান, সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই। তবে একটি পুরোনো সেতু ভেঙে একটি জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সড়কে পড়ে থাকা গাছ দুই ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন নাইডু। জাতীয় মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে এবং ঝড় কমার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুততম সময়ে পুনরুদ্ধার করতেও বলেছেন তিনি। ত্রাণশিবিরে খাবার, পানি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি ও উদ্যান ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
source: Rajneete







