কুমিল্লায় নিহত তাজমিনের লাশ গ্রামের বাড়িতে, শোকের মাতম

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ পৌঁছেছে যশোরের গ্রামের বাড়িতে। ওই কিশোরীর লাশ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মেয়ের মরদেহ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
জান্নাতুল তাজমিন ওই গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে সে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তার। তবে রাতে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাননি বাবা আবদুল আলীম।
মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিজের মেয়ে জান্নাতুল তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে হত্যার বিবরণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি রেজিস্ট্রেশনকৃত। আমরা সেটির সূত্র ধরে এগুচ্ছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
source: Asia Post







