স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৮

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৮০ জনকে হাসপাতালে ভর্তির খবর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কয়েকজন নিখোঁজও রয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার দিকে যাওয়ার পথে টলেডো প্রদেশের উর্দার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদিফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটের দিকে উর্দা ও লস ইয়েবেনেসের মধ্যবর্তী এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি এভিই ট্রেন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেন। ইরিওর ট্রেনটি কোনো এক কারণে থেমে যাওয়ার পর সেটির পেছনে রেনফের ট্রেনটি ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সংঘর্ষে ইরিওর ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেলপথের পাশের ঢালে পড়ে যায়। একটি বগি কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাল জুড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে দমকল কর্মী, পুলিশ, চিকিৎসা কর্মী ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগিতে আটকে থাকা যাত্রী ও মরদেহ উদ্ধারে বিশেষভাবে কাজ করছেন উদ্ধার কর্মীরা।
আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরিওর ট্রেনে ১৪৭ জন ও রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রীসহ দুটি ট্রেনে সাড়ে পাঁচ শতাধিক আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়া পর্যন্ত উচ্চগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীরাও এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রাথমিক তদন্তে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সম্ভাব্য ভুলের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে স্পেনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
-a5febe.jpg)
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনার পর দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছে।
এটি চলতি বছরে স্পেনের দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা। ৯ মাস আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। নতুন দুর্ঘটনাটি দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
source: Rajneete






