News

৩ লাখ রোহিঙ্গার পরিচয় শনাক্ত, রাখাইনে নিরাপত্তা ফিরলে প্রত্যাবাসন: মিয়ানমার

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার জনকে রাখাইন রাজ্যের ‘সাবেক বাসিন্দা’ হিসেবে শনাক্ত করেছে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় উল্লেখ করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার (১৬ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নামের তালিকা মিয়ানমারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকারের যাচাই করা রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বড় বাধা হিসেবে দেখছে মিয়ানমার। দেশটি বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে সোমবার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—

আরো পড়ুন

১. ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে।

২. ২০১৭ সালে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমনাভিযানের পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা অব্যাহত রয়েছে।

৩. ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিল

মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ছাড়া তালিকায় থাকা আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।

৪. নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে প্রত্যাবাসন নয়

মিয়ানমার বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না। দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে রাখাইনে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই করছে। এই গোষ্ঠী রাখাইন অঞ্চলের জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়।

৫. প্রত্যাবাসনকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় বলছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। দেশটি বলেছে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দেশ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।

৬. মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরাতে সম্মতি

মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই প্রত্যাবাসন কার্যকর করা হবে না, যাতে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের তৎকালীন সামরিক সরকারের অভিযান ও নির্যাতনের কারণে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের একটি বড় অংশ নিজ দেশে ফিরে যায়।

এরপরও বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন ও সহিংসতার কারণে কয়েক দফায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাদের বড় একটি অংশ এখনো বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে।

source: Rajneete

Back to top button