ইরান চুক্তির পক্ষে জিনপিং, ট্রাম্প বললেন ‘দারুণ’ বৈঠক হয়েছে

হোয়াইট হাউজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধ, ইরান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর চীন জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জুনে হওয়া সমঝোতায় ফেরার পক্ষে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে বৈঠকে বসেন দুই নেতা। এর আগে জিনপিংকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সত্যিই চমৎকার বন্ধুত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। বলেন, দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ করেছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট অবশ্য বৈঠকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সংঘাত এড়ানোর ওপর। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্বার্থ গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। সহযোগিতা হলে দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাতে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জিনপিং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ ও সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, খোলামেলা ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশ পরস্পরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং মতপার্থক্য সামলে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ফিরতে চায় চীন
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরান। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ট্রাম্পকে জিনপিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জুনের সমঝোতায় ফিরে যাক, যে সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
ওই জুনের সমঝোতায় ১৪ দফার একটি উচ্চপর্যায়ের বোঝাপড়া ছিল। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য রেখে দিয়ে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জুলাইয়ের শুরুতেই ট্রাম্প ওই সমঝোতাকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন এবং পরে ইরানও সেটি স্থগিতের কথা জানায়।
বাণিজ্য-শুল্কেও নজর
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে চলমান ‘ট্রেড ট্রুস’ও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বৈঠকের আগের দিন বুধবারই দুই দেশ এই বিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন। এর ফলে বড় ধরনের একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় পেল দুই দেশ।
ট্রাম্পের ভাষায়, দুই দেশ আরও ‘ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক’ তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের জন্য চীনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রযুক্তি ও এআই নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও এআইকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। জিনপিং বলেন, বিশ্বের দুই শীর্ষ এআই শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তির উন্নয়নকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানো এবং এআই যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করা।
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জিনপিং আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ‘থুসিডিডিস ট্র্যাপে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সামরিক সংঘাতে না গড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
source: Rajneete







