News

অভিবাসন চাপ কমাতে ইউরোপীয় কমিশনের ৫ পরিকল্পনা

অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্ত আরও নিরাপদ করতে পাঁচ দফা নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

পরিকল্পনায় ফ্রন্টেক্সকে আরও শক্তিশালী করা, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সীমান্ত নজরদারি উন্নত করা এবং ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফোমাইগ্র্যান্টস।

ইইউর কার্যনির্বাহী সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইইউর পূর্ব সীমান্ত থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত নতুন ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও সমন্বিত ইউরোপীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কমিশন।

বিশেষ করে স্পেনের সেউটা সীমান্তে গ্রীষ্মকালীন সংকট দেখিয়েছে, কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বড় আকারের অভিবাসন প্রবাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কমিশনের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

সংস্থাটি বলেছে, ইইউর বর্তমান অভিবাসনব্যবস্থার কারণে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত সুরক্ষা, অংশীদারত্ব এবং ফেরতব্যবস্থায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে অভিবাসন বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ইউরোপের প্রয়োজন শক্তিশালী বহিঃসীমান্ত, কার্যকর অভিবাসন কূটনীতি, আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বিশ্বাসযোগ্য ফেরতব্যবস্থা।

ইইউর বহিঃসীমান্ত সুরক্ষা, অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ সংকটের প্রস্তুতি জোরদার করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন, সেগুলো হলো—

অংশীদারী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি

ইইউ অভিবাসনের মূল কারণ মোকাবিলা, আগাম সতর্কতাব্যবস্থা উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময় বাড়াতে উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইইউর বহিঃসীমান্ত শক্তিশালীকরণ

কমিশন ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের দায়িত্ব ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েনের জন্য আরও শক্তিশালী স্থায়ী বাহিনী, উন্নত সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থা এবং চাপের মুখে থাকা সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান।

নজরদারি ও আগাম সতর্কতাব্যবস্থা উন্নত করা

ইইউ সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং নতুন অভিবাসন পথ শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অনিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিতকারী অনলাইন কার্যক্রম শনাক্ত করতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান চক্র দমন

অভিবাসন চোরাচালানকারী ও মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। এ জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা

যেসব ব্যক্তির ইইউতে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ফেরত কার্যক্রমে ফ্রন্টেক্সের ভূমিকা বাড়ানো এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হবে।

ইইউ কমিশন জানিয়েছে, এই পাঁচ দফা পরিকল্পনা ১ ও ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইইউর বিচার ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে।

কমিশনের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা শুধু কোনো একটি দেশের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ দায়িত্ব। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সদস্য দেশ, ইইউ সংস্থা এবং কমিশনের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে।

source: Asia Post

Back to top button