News

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ। সরকারি দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে কখনো প্রধানমন্ত্রী, আবার কখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন ভুচিচ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগপত্র জমা দেন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির এই নেতা। তবে পদত্যাগ করলেও এখনই রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না ভুচিচ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, টানা তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই ভুচিচের। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

পদত্যাগের আগে শেষ মুহূর্তের এক আদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় দণ্ডিত ২৩ জনসহ মোট ৪৯ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার মেয়াদে তার সরকার সার্বিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

ভুচিচ গত জুনেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ফলে বছরের শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার ভোটারদের দুবার ভোট দিতে হবে।

আগাম সংসদ নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ভুচিচ। চলমান বিক্ষোভের জেরেই আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবির তালিকায়ও আগাম নির্বাচনের বিষয়টি ছিল।

জনতুষ্টিবাদী এই নেতার সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মকানুন এড়িয়ে কাজ করার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। ২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সেই ক্ষোভকে বড় আকারে উসকে দেয়। এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কৃষকরাও এসব বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনা ভুচিচের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনে থাকা নানা অনিয়মেরই প্রতিফলন। রেলস্টেশনটির সংস্কারকাজের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছিলেন। সংস্কার করা স্টেশনটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার কথা ছিল।

ভুচিচের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ধারাবাহিক পদত্যাগও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারেনি। চলতি গ্রীষ্ম জুড়েও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর এসব বিক্ষোভে অস্থিরতা দেখা দেয়।

সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের খবরে বলা হয়েছে, ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া ‘ভয়াবহ ঘটনাগুলোর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত তার দলের অনুগত ব্যক্তিদেরও ক্ষমা করা হয়েছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং ইউরোপপন্থি বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’র সঙ্গে।

প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে ভুচিচের প্রভাব ধরে রাখার সুযোগ থাকছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ভুচিচ। এরপর ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ভুচিচ প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করতে চান। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও সার্বিয়ার অর্থনীতি উন্মুক্ত করেছেন।

source: Rajneete

Back to top button