News

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৫ শতাধিক বিদেশি পর্যটক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫ জন। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যার মধ্যে বিদেশি পর্যটকই রয়েছেন অন্তত পাঁচ শ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৯৫টি মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগকে আকস্মিক ও প্রচণ্ড ধ্বংসাত্মক আখ্যা দিয়ে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

নেপালি পুলিশের নিশ্চিত করা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা এখন ৫৭৯। এর মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি ভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক। তারা বলছে, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি, ৫৪ জন মার্কিন নাগরিক ও নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জন।

অন্যদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের তথ্য উদ্ধৃত করে পর্যটন বোর্ড বলছে, অধিকাংশ যাত্রী ভারত ও নেপালের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত মানস সরোবরের পথে ছিলেন।

বুধবার সকালের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলায় এ বন্যা আঘাত হানে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে এলাকাটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে প্রাথমিক তথ্যের বরাতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন পার্লামেন্টকে।

শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয় এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তবে তথ্যগুলো এখনো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। নেপালের পাশাপাশি চীনও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে নেপাল।

সংসদে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও ৪৪ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও। এ ছাড়া সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান শিশির খানাল।

দেখতে দেখতে চোখের সামনে আকস্মিক বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সবকিছু। ছবি: সংগৃহীত

দেখতে দেখতে চোখের সামনে আকস্মিক বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সবকিছু। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিগ্রস্ত চীন

দুই দেশের সীমান্তবর্তী একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চীনা সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্ধার তৎপরতার জন্য উদ্ধারকারী দলকে তিব্বতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি চীন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানায়। স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত তিব্বতের জিরংয়ে ভূমিধসে তিনজন নিহত ও ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করে তারা। সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের জরুরি সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে এবং আরও আকাশপথে নজরদারি ও বিমানযোগে সহায়তা মিশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতেও সতর্কতা

নেপালের দক্ষিণে অবস্থিত ভারতের বিহার রাজ্যের কর্মকর্তারা গণ্ডক নদীর সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাঁধ পর্যবেক্ষণ, রাতের টহল এবং জরুরি সেবাকর্মী দল মোতায়েনের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় রেড ক্রস জানিয়েছে, সম্ভাব্য তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলছে, আজ এর আগে কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর থেকে এলাকায় প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং রাজ্যের তিনটি জেলায় জরুরি সেবাদল মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এসব দল একটি পরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৮৮ জন বন্যা দুর্গতকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সৈন্যরা মাইলুং গ্রাম থেকে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

রাজারাম বাসনেট বিবিসিকে জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ১৫টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিমুরে, সিয়াব্রুবেসি এবং বেত্রাবতীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানের সেতু ভেসে গেছে।

source: Rajneete

Back to top button