ওসির কক্ষে ঢুকতে না পেরে বিএনপি নেতার বাগবিতণ্ডা, থানার ফটক ভাঙচুর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এর কিছুক্ষণ পর ৪০ থেকে ৫০ জন লোককে নিয়ে ওই নেতা থানার দিকে যাওয়ার সময় প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে। তবে থানায় হামলার সময় তিনি সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাদানুবাদে জড়ানো অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আরিফ রব্বানী ওরফে টুটুল। তিনি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম এলাকায়।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢুকতে চান। তখন দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. বকুল মিয়া তাকে জানান, ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে আছেন। তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হলে তিনি ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানতে পেরে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখন ওসির সঙ্গেও আরিফ রব্বানীর বাগবিতণ্ডা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ওই সময় থানায় থাকা যুবদলের কর্মী সুমন, আদিলসহ কয়েকজন আরিফ রব্বানীকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান। তার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি বা গায়ে হাত দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এরপর রাত ১০টার কিছু আগে থানার বাইরে যাওয়ার সময় একদল লোককে থানার দিকে আসতে দেখেন বলে জানান ওসি।
তার ভাষ্য, তাদের কারও হাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাদের পেছনে আরিফ রব্বানীকেও দেখা যায়। তিনি ওয়্যারলেসে থানায় থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি থানার প্রধান ফটকে গিয়ে ভাঙচুর করেন। পাশের ট্রাফিক বক্সেও হামলা চালানো হয়। এতে বক্সের কয়েকটি কাচ ভেঙে যায় এবং কয়েকটি লোহার রড বাঁকা হয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন ব্যক্তি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে যায়। পুলিশ সদস্যরা গেটের কাছে গেলে ভাঙচুরকারীরা সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনার বিষয়ে আরিফ রব্বানীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, আরিফ রব্বানী থানায় কোনো অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ওসির কক্ষে ঢোকার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয় বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কিছু লোক থানায় গিয়েছিলেন। তবে থানায় ভাঙচুরের ঘটনা হয়েছে কি না, জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে দিনে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওসির কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানাতে থানার ওসিকে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
source: Asia Post







