পুতিনের বাণীতে রাশিয়ায় শুরু হলো আন্তর্জাতিক যুব উৎসব

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শুভেচ্ছাবাণী আর জমকালো আয়োজনে দেশটির ইকাতেরিনবার্গ শহরে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’। এই উৎসবে সমবেত হয়েছেন ১৯১ দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি।
বিভিন্ন দেশের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি ও চার গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ৭৪ জন অংশ নিচ্ছেন।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এই ফেস্টিভ্যালের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও, মূল আসর শুরু হয় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে। এদিন বিকেলে ইকাতেরিনবার্গ শহরের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে এবারের আসরের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
ফেস্টিভ্যালের অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এ বছর আপনারা উরালের (প্রদেশ) রাজধানী ইয়েকাতেরিনবুর্গে একত্র হয়েছেন এমন এক শহরে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলন ঘটে এবং যেখানে ইতিহাস যেন প্রতিটি পাথরের মধ্যেই জীবন্ত হয়ে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উরাল এমন সব ধারণার জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের দেশকে আরও ভালোভাবে বদলে দিয়েছে। প্রথম কারখানা, রাশিয়ার প্রথম শিল্পবিপ্লব এবং আধুনিক যুগের শত শত বৈজ্ঞানিক সাফল্য—এসবই এ অঞ্চলের অবদান। নতুন প্রযুক্তির আগমনে আমাদের জীবন কীভাবে বদলে যাচ্ছে এবং আমরা ভবিষ্যতে কেমন পৃথিবী চাই, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতারা আলোচনা করবেন, আর তার জন্য রাশিয়ার শিল্প, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্র এই স্থানটির চেয়ে উপযুক্ত আর কোথায় হতে পারে!’
ভ্লাদিমির পুতিন আরও বলেন, ‘রুশ ভাষায় “মির” শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব, শান্তি এবং সম্প্রীতি; একই সঙ্গে এর অর্থ পৃথিবী, বিশ্বগ্রহ অর্থ্যাত মানবজাতি, পৃথিবীর সব দেশ ও জাতি। এটি রাশিয়ার বহুজাতিক জাতির চরিত্র, আমাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করে। আমরা যদি বন্ধু হই, তবে আমাদের বন্ধুত্ব হবে দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী। আমরা যদি প্রতিবেশী হই, তবে আমরা ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান কামনা করি।’
সবার স্বাধীনতার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক মানুষ মানুষ হিসেবেই বেঁচে থাকুক, এবং তার ভাগ্য নির্ধারিত হোক না তার জাতীয়তা, অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা বা পারিবারিক পটভূমি দিয়ে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে প্রতিটি জাতি স্বাধীনভাবে নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে এবং ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমান প্রাপ্যতা পাওয়ার অধিকারী, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের কাজ, আমাদের স্বপ্ন। যদি আপনারাও এই আকাঙ্ক্ষাগুলো ভাগ করে নেন, তবে আসুন, আমরা একসঙ্গে বিশ্বকে বদলে দিই।’
স্বপ্নপূরকে রাশিয়াকে সহযোগী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তরুণদের উদ্দেশে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যারা রাশিয়ায় এসে আমাদের প্রকল্পগুলোতে যোগ দিতে চান, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। আবার যারা নিজ নিজ দেশে থেকে আমাদের এই যৌথ নতুন, উন্মুক্ত এবং আশা করি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে চান, তাদের দেখেও আমরা সমান আনন্দিত হব। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা, তরুণ প্রজন্ম, সফল হবেই। এটাই তোমাদের সময়। রাশিয়ার সঙ্গে তোমাদের স্বপ্ন অনুসরণ করো।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস তুলে ধরতে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাতে রাশিয়ার কণ্ঠশিল্পী নাটালিয়া অরেইরো, তাতিয়ানা কুর্তোকোভা, দক্ষিণ কোরিয়ার রক ব্যান্ড ‘ডব্লিউ২৪’ সহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা একক ও দলগতভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি, পেশাভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত হবে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনায় যুব বিষয়ক দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রজমলোদেজ’-এর উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের আয়োজনে এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হয়।
এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি ও চার গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ৭৪ জন অংশ নিচ্ছেন। ফেস্টিভ্যালের জন্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় বাছাই করা অংশগ্রহণকারীদের সব খরচ আয়োজক কর্তৃপক্ষ বহন করে।
source: Asia Post







