News

রাশিয়ায় যুব উৎসবে সমবেত হচ্ছেন ১০ হাজার প্রতিনিধি, আছেন ৭৪ বাংলাদেশি

রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ বা আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬। এই উৎসবে অংশ নিতে ইকাতেরিনবার্গে সমবেত হচ্ছেন ১৯১ দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।

এবারের এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি এবং চারজন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিচ্ছেন।

আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে এবারের আসরের মূল পর্ব শুরু হবে। এর আগের দুই দিন অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার এবং আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত রাখা হয়েছে আমন্ত্রিত অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন এবং অভ্যর্থনার জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা এই দুই দিন ইকাতেরিনবার্গ শহরে এসে পৌঁছাবেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের মূল উদ্যোক্তা যুব বিষয়ক রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রজমলোদেজ’-এর প্রধান গ্রিগরি গুরভ বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে চিন্তাশীল মানুষদের একত্র করছি। এমন তরুণ প্রজন্ম, যারা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে এবং তারা কেমন পৃথিবী গড়ে তুলছে, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে। এখানে আমাদের অংশগ্রহণকারীরা নতুন প্রকল্প চালু করছে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি করছে এবং দল গঠন করছে। আমাদের কাজ হলো যোগাযোগের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করা এবং নিশ্চিত করা যেন তারা এটিকে সত্যিই আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ মনে করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে সৃজনশীল মানুষ, বিজ্ঞানী, তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, ব্লগার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং শিল্পীদের স্বাগত জানাচ্ছি। এই উৎসব চলাকালীন ইকাতেরিনবার্গ সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের তরুণদের রাজধানীতে পরিণত হবে।’

রাশিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের যুব প্রতিনিধরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট
রাশিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের যুব প্রতিনিধরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

উৎসবের আয়োজক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক দিমিত্রি ইভানভ বলেন, ‘এই প্রদর্শনীতে সাতটি বিষয়ভিত্তিক এলাকা বা জীবনের সাতটি ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা একত্রে সার্বভৌম উন্নয়নের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। এটা এমন একটি মডেল যা ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একটি একক ও পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। এই প্রদর্শনী ক্ষেত্রটি তৈরিতে প্রায় ১৪৭টি সংস্থা অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চাই যে দেশ ও মানুষের মাঝে কোনো বাধা থাকতে পারে না।’

গতকাল শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত ইকাতেরিনবার্গে আসছেন যুব প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানাচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবকরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিসিলিস, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, মিশর, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, বেলারুশসহ ১৯১টি দেশ থেকে যুব প্রতিনিধিরা এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথে অংশ নেওয়া যুব প্রতিনিধিরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট
ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথে অংশ নেওয়া যুব প্রতিনিধিরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মী ও ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালের বাংলাদেশ অংশের ন্যাশনাল প্রিপারেটরি কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক হোসাইন মোহাম্মদ সাগর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছি। এই আয়োজনে বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে যুব নেতৃত্ব অংশ নেয়। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সমন্বয় তৈরির সুযোগ থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যে খাতে কাজ করছেন, সেই খাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে কী হচ্ছে, সেখানে কী ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে, সেগুলো কীভাবে আপনার কাজে আসতে পারে; এসব জানার সুযোগ থাকে এ ধরনের আয়োজনে। এই আয়োজনের প্রতিটি তরুণের জন্য এটা দারুণ একটি সুযোগ নিজেদের জন্য একটি সম্ভাবনা তৈরি করা।’

ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা যুব প্রতিনিধি এঞ্জেলিকা চেরলিন নিজ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ ভবিষ্যতের জন্য নিজের অবদান রাখাটা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্ব থেকে মানুষ এখানে একত্র হচ্ছে এবং আমার কাছে এটি কেবল একটি উৎসবই নয়, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ। আমি আশা করছি এই উৎসব আমাকে শুধু স্মরণীয় অভিজ্ঞতাই এনে দেবে না, সেই সঙ্গে নতুন বন্ধুত্ব এবং বিভিন্ন দেশের সমবয়সীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তৈরি করে দেবে।’

এঞ্জেলিকা বলেন, ‘আমি অনেক নতুন বন্ধু তৈরির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এবং যারা এই ইভেন্টটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

source: Asia Post

Back to top button