সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি দিল কলম্বিয়া

ইসরায়েলের অধিকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর দেশটির সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা এলো।
সোমবার কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্বের দাবির স্বীকৃতির কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে কলম্বিয়া এই দাবি স্বীকার করল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কলম্বিয়া এই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব এবং বহিরাগত হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলাকে ‘ভালো বন্ধু’ উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ গ্রহণের এক দিন আগে কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির বড় একটি অংশ দখল করে ইসরায়েল। ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয় দেশটি। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
জাতিসংঘ অবশ্য গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গত মাসেও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সিরিয়া গোলান মালভূমি পুনর্দখলের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। পরের বছর ইসরায়েল ও সিরিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। এরপর থেকে অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকে। ইসরায়েল জাতিসংঘের নজরদারিতে থাকা একটি বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করেছে এবং কৌশলগত কয়েকটি এলাকা দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী দামেস্কের দিকে নজর রাখা সিরীয় অংশের জাবাল আল-শেখ বা মাউন্ট হারমনের এলাকাও রয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার আগে নির্বাচনি প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই কোটিপতি রাজনীতিবিদ তার পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রোর ইসরায়েলবিরোধী নীতি পরিবর্তনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পেত্রো গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং ইসরায়েল থেকে অস্ত্র আমদানি বন্ধ করেছিলেন।
এ ছাড়া দে লা এসপ্রিয়েলা অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় দূতাবাস খোলার পেত্রোর পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন।
source: Asia Post







