গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিনের কূটনৈতিক ও গলফ সফরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। এই সফরটি তার প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সীমারেখাকে আবারো আলোচনায় এনেছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, কাতারের উপহার দেওয়া বিমানে করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়ারল্যান্ডের সময় সকাল ৮:২৫ মিনিটের (০৭:২৫ জিএমটি) কিছু আগে ডাবলিন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্নাইপার সহ অন্তত ৪,০০০ পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যা আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সফরের প্রতিবাদে ডাবলিনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। সফরের অংশ হিসেবে মার্কিন নেতা আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (টানাইস্ট/টিশখ) মাইকেল মার্টিন এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সাথে পৃথক বৈঠক করবেন।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত তার বিলাসবহুল ‘দুনবেগ’ গলফ রিসোর্টে যাবেন, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গলফারদের অংশগ্রহণে আইরিশ ওপেন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গলফ-প্রেমী এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোববার টুর্নামেন্টের ট্রফিও বিতরণ করতে পারেন।
‘সংক্ষিপ্ত ও সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ’
ট্রাম্প প্রথমে আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যা মূলত একটি অলংকারিক পদ। কনলি একজন বামপন্থী রাজনীতিক এবং ট্রাম্পের স্পষ্টভাষী সমালোচক। তাদের বৈঠকে গাজা সংকট নিয়ে আলোচনা করার জন্য তার ওপর নিজস্ব রাজনৈতিক মহলের ব্যাপক চাপ রয়েছে।
এরপর ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের সরকারপ্রধান মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মাইকেল মার্টিনের সাথে তিনি ইতিপূর্বে ওভাল অফিসে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের মধ্য ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ হৃদ্যতাপূর্ণ।
তাদের আলোচনার মূল এজেন্ডায় থাকবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। যার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ইইউ ফার্মাসিউটিক্যালসের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়াবলী।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্রের কারণে আয়ারল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে অনেক বিষয়ে আয়ারল্যান্ড সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন—বিশেষ করে ফিলিস্তিন সমর্থনের ক্ষেত্রে। ইসরায়েলি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণাকারী স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ডও অন্যতম।
source: Asia Post







