News

হরমুজে ৪৫ তেলবাহী জাহাজকে হুমকি ইরানের

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত ট্রানজিট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৫টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব জাহাজ ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবহার করলে জরিমানা, আটক বা পণ্য জব্দের মুখে পড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ সোমবার (২৪ আগস্ট)এক বিবৃতিতে জানায়, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে যারা পণ্য স্থানান্তর বা অন্য ধরনের সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানির ট্যাংকার রয়েছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ এমন একসময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, আর তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করা হতে পারে।

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জ্বালানি বাজারের অংশীজনেরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

source: Rajneete

Back to top button