News

বৈধ অভিবাসন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতালিকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বৈধ অভিবাসন জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও ইতালি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত দুই দেশের তৃতীয় রাজনৈতিক পরামর্শ সভায় এসব বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে ইতালির পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব রিকার্দো গুয়ারিগ্লিয়া।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমে অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইতালির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ঢাকা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতালির সমর্থন প্রার্থনা করে। পাশাপাশি এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি সুবিধা বজায় রাখতে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ইতালির রাজনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়।

অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশ বৈধ উপায়ে কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইতালিগামী কর্মীদের জন্য ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে সহায়তার পাশাপাশি ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশটিতে যাওয়া কর্মী—যাঁরা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে জটিলতায় পড়েছেন—সেই কয়েকশ বাংলাদেশির সংকট সমাধানের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে ঢাকা।

এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্যনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রসারে উভয় দেশ একমত পোষণ করে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ইতালির পক্ষ থেকে আরও রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ।

দুই দেশই আগামী বছর রাজধানী ঢাকায় পরবর্তী ‘বাংলাদেশ-ইতালি রাজনৈতিক পরামর্শ সভা’ আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এদিকে একই দিন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পুষ্টি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

source: Asia Post

Back to top button