রাব্বিকে পুড়িয়ে হত্যার পর সেই মদের দোকানে বিএনপি নেতার তালা

বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর নরসিংদীর সেই দেশীয় মদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজির মোড়ে অবস্থিত ওই মদের দোকানে তালা দেন মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ। রাব্বি হত্যার পর জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় মদ বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাজির মোড় এলাকার ওই মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন। মদ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর দগ্ধ রাব্বিকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকার ও কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় মদের দোকান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, মাদকের কারণে চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে। রাব্বিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর এই ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ১৯৯৯ সালের ৭ মে নরসিংদী শহরে বিষাক্ত মদ পান করে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সমকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১১৩ থেকে ১১৭ জন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম আলোর সংরক্ষিত প্রতিবেদনে ১১ মে পর্যন্ত নরসিংদী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সেই ঘটনার পরও শহরের জনবহুল এলাকায় কীভাবে মদের দোকানটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি মদের দোকান পরিচালনার অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দোকানটির কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে দোকানের মালিক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নরসিংদীর যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দোকানটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, মাদকের কারণে শহরে চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো অপরাধ বেড়েছে। নেশার জন্য প্রকাশ্যে একজনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশে এমন ঘটনা হতে পারে না। নরসিংদী সরকারি কলেজসহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এই মদের ব্যবসা চলছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিপথে যেতে পারে। খুন, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বন্ধে শহরের মদের দোকান বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে দেশীয় মদের দোকানের মালিক রুবেল মিয়া ও ম্যানেজার হাসেম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান বলেন, মদের দোকানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে দোকানটির লাইসেন্স সরকারের অন্য একটি দপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে। তাই দোকান স্থানান্তর বা বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
source: Asia Post







