News

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল: চিফ হুইপ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এতে অংশ নেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোটের পদ্ধতি সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, ভোট হবে সংসদের মধ্যে এবং বুথ থাকবে সংসদের ভেতরে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভক্তি অনুযায়ী, তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী, জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগে ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটা ভোট বাকি আছে, তার জন্য আমরা ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ৫টার পরে ফলাফল ঘোষণা করব।

তিনি আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে এক দিনের বৈঠক ডাকবেন সিইসি।

বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে আমরা সবাই জানতে পারব। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই আমরা সবাই জানব।

এ সময় নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং আমরা দেশবাসীকে রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানান দিতে চাই। আমাদের প্রার্থী যিনি, আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।

‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল মনে করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। তারপরও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা কনটেস্টে হতে দিতে চাই না। সে কারণেই বিরোধী দল প্রার্থী দিয়েছে।

এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম দাবি করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় বিদ্যমান ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। অবশ্যই জুলাই সনদ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোটে ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি আরও দুটি বিষয় যোগ করার কথা বলেছিল। তা হলো, সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)। সেখানে রাষ্ট্রপতির বিষয়টি নেই। সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন সংসদ সদস্যরা।

source: Asia Post

Back to top button