মিরপুরে টিকাকেন্দ্রে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও টিকা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হামলায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ইতিমধ্যে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাতে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা না গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভাঙচুরের পর টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হবে কি না; এমন প্রশ্নে প্রশাসক আশ্বস্ত করে বলেন, সেখানে ইতোমধ্যেই টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধ করতে না পারার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কেন্দ্রটি কোনো স্থায়ী অট্টালিকা ছিল না, মূলত টিনশেড দিয়ে তৈরি একটি স্থাপনা ছিল। তবে স্থাপনা যেমনই হোক, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক ঘটনার কোনো সমর্থন নেই এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে রাড্ডা টিকাকেন্দ্রে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। কিন্তু রাতের আঁধারে একটি টিকাকেন্দ্র এভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। তারা শুরুতেই দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভবনে প্রবেশ করে। এরপর ক্লিনিকে থাকা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ জরুরি সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ, লুটপাট শেষে এক্সকাভেটর বা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সবকটি ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই তাণ্ডবে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামালসহ অন্তত দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কেন্দ্রটি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সুবিধা দিয়ে আসছিল। এ হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, বরং অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপর আঘাত।
source: Asia Post







