News

খাতা পুনর্মূল্যায়নে ২৭৮৩৬ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মোট ৫৬ হাজার ২৫৯টি নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।

এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার স্ক্রিপ্টের আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার খাতার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা ছিল না। শুধু ট্যাবুলেশন শিটে নম্বর যোগ করার বিষয়টি দেখা হতো। অতীতে খাতা পরিবর্তন বা অন্য কোনো অনিয়ম হলেও অনেক সময় তা ধরা পড়ত না। এ অভিজ্ঞতা থেকে এবার আইন সংশোধন করে খাতা পুরোপুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রকৃত ফল থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারে। এবার পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কিছু বিষয় সামনে আসবে।

তিনি আরও বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব খাতা আলাদা করে আরেকটি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। কোন পরীক্ষকের কী ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হতো। এ বছর প্রথমবারের মতো এ সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে এ সম্মাননার আওতায় আনা হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

source: Asia Post

Back to top button