News

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ঢলে ২২ প্রাণহানি, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ ঢলে অন্তত ২২ জনের প্রাণহানির তথ্য মিলেছে। ঢলে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ, যাদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী ও আশপাশের এলাকায় এই আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব বলছে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। তবে এই তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবরে তীর্থযাত্রা করতে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয়দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদেরও নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কয়েকজন কর্মীরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ের ওপর বরফ ও পাথরের বিশাল ধস লেন্দে খোলা নদীর গতিপথে বাধা তৈরি করেছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে নেমে এসে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ ঢল নামে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর বরফ-পাথরের ধসের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্যোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

পানির সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত রাসুয়া জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা তছনছ করে দিয়েছে। বাড়িঘর ও সড়কের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে।

আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগের প্রভাব শুধু নেপালে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত বন্দরও বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার ও যোগাযোগ কার্যক্রম কঠিন হয়ে উঠেছে। চীন এরই মধ্যে উদ্ধারকাজে শত শত সদস্য মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

নেপাল সরকারও ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে পাহাড়ি ভূখণ্ড, ধ্বংসস্তূপ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভারতও নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় থাকা ভারতীয়দের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই আরও একটি বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসাবশেষ জমে নদীর প্রবাহ আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে পানি জমে গেলে আরেকটি আকস্মিক ঢল নামতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ-সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ ও তুষারস্তরের পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রবণতা এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে বুধবারের এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

source: Rajneete

Back to top button