News

ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তনের ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ দেখছেন আরব জোটের নেতা

ইসরায়েলের রাজনীতিতে সরকার পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধান ফিলিস্তিনি-আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসন পাওয়ার পর তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার উগ্র ডানপন্থি জোটকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তারা। তবে নতুন সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে তাদের আসনসংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৫৩ হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ ব্লক’ পেয়েছে ৪৮টি আসন।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১১টি এবং ইসলামপন্থি রা’আমের আসন আটটি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটদানের হার বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

জাবারিনের ভাষ্য, আরব ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা নেতানিয়াহু সরকারের অবসান, বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচকে ক্ষমতা থেকে সরানো। গত চার বছরে আরব জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, অপরাধী চক্রের বিস্তার, পৌরসভা ও শিক্ষায় বরাদ্দের ঘাটতি, বর্ণবাদ এবং পুলিশের সহিংসতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইজেনকটের জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, সামরিক অথবা বেসামরিক জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণ এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। রা’আম এসব শর্তের ভিত্তিতে আলোচনায় আগ্রহী। তবে জয়েন্ট লিস্ট সরাসরি সরকারে যোগ দিতে রাজি নয়।

জাবারিন বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদারত্ব অব্যাহত থাকলে তারা কোনো সরকারের অংশ হতে পারবেন না। তবে নেতানিয়াহুকে সরাতে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে বিরোধীরা নেসেটে স্পিকার পরিবর্তন এবং আইন প্রণয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে পারে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকেই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারেন। নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আরব নাগরিকদের সমান অধিকার এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন জাবারিন। নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

source: Rajneete

Back to top button