News

ইরান বলছে ২ প্রতিনিধি নিউইয়র্ক ছেড়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বলছে ‘বহিষ্কার’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ইরানি প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য নিউইয়র্ক ছেড়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, দেশ ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করায় তাদের ‘বহিষ্কার’ করা হয়েছে। একই ঘটনার দুই দেশের এই বিপরীত বর্ণনায় ফের ওয়াশিংটন-তেহরানের কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরও ইরানি প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের খুঁজে পাওয়ার পর দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

মার্কিন এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইরানি প্রতিনিধি দলের আরও দুই সদস্যকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শেষ হওয়ার অনেক পরও নিউইয়র্কে পাওয়া যায়। তাদের এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘কথায় নয়, কাজে দেখিয়েছেন’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, দুই সদস্যের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের এই প্রস্থান ছিল মার্কিন সরকারের দেওয়া নির্দেশ কার্যকর করার অংশ।

তবে ইরানের বক্তব্য ভিন্ন। তেহরানের জাতিসংঘ মিশন এর আগে জানিয়েছিল, প্রতিনিধি দলের নিউইয়র্ক ছাড়ার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সেই সূচি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।

ইরানি মিশনের ভাষ্য, প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যায় পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে, তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। ওয়াশিংটন ‘কিছু অর্জন করতে না পেরে’ এ ধরনের ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করে তেহরান।

বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তার প্রতিনিধি দলকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ইরানি প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে অবস্থান করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের দ্রুত চলে যেতে বলা হয়।

তখনো একইভাবে ‘বহিষ্কার’ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, রুবিও ইরানি প্রতিনিধি দলকে অবিলম্বে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ইরানের জাতিসংঘ মিশন তা অস্বীকার করে জানায়, তাদের সফরসূচি আগেই নির্ধারিত ছিল এবং সেই অনুযায়ীই তারা নিউইয়র্ক ছেড়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনাও হয়েছিল। আলোচনায় প্রধানত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, চলমান যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরুর বিষয় ছিল। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ পরিস্থিতিতেই রুবিও ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবার আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনো সরাসরি আলোচনা নির্ধারিত নেই। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনার কথা যুক্তরাষ্ট্র বললেও তেহরানের অবস্থান এখনো অনড়।

দুই ইরানি প্রতিনিধিকে ‘বহিষ্কার’ করার মার্কিন দাবি তাই শুধু নিউইয়র্কে অবস্থানের অনুমতি নিয়ে বিরোধ নয়। এটি এমন একসময়ে ঘটল, যখন কয়েক দফা পরোক্ষ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে প্রতিনিধি দলের নিউইয়র্ক ছাড়ার ঘটনাটিও দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কূটনৈতিক দূরত্বের আরেকটি নজির হয়ে উঠেছে।

source: Rajneete

আরো দেখুন
Close
Back to top button