আমার শেকড় বাংলাদেশে, আমি দেশে ফিরতে চাই: গাজায় আটকেপড়া হুসাইনের বার্তা

বাবার চাকুরির সূত্রে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে ফিলিস্তিনে পাড়ি জমান চাঁদপুরের আবু হুসাইন কারিম রালী। তার বাবা যেনতেন চাকুরি করতেন না। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের দেহরক্ষি। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর পরিবার গাজাতেই থেকে যায়। সেই থেকে গাজা হয়ে ওঠে হুসাইন কারিমের জীবনের ঠিকানা।
শৈশব পেরিয়ে যৌবনে পদার্পন করা হুসাইন গাজায় ফিলিস্তিনি নারীকে বিয়ে করে ঘর বাঁধেন। একে একে জন্ম নেয় তার ৫ সন্তান। এখন তাঁর বয়স ৩৫। তবে, গাজায় বসবাস করলেও তার মন পড়ে থাকে সর্বদা জন্মভূমি বাংলাদেশে। সন্তানদের কাছে প্রায়ই গল্প করেন নিজ দেশ নিয়ে। চারিদিক ঘিরে থাকা ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখেও গাজায় ইমামতির সীমিত আয় দিয়ে বৈবাহিক জীবনের প্রথম দিকেও ভালোই কাটছিলো।
একারণে, ২০১৪ সালের যুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা গাজা ছেড়ে চলে গেলেও আবু করিম থেকে যান। যুদ্ধ, গোলাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজার মানুষের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের যুদ্ধ তাঁর জীবনের সব হিসাব যেন ওলটপালট করে দিয়েছে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্রতিটি দিন মুহূর্ত কাটছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
যুদ্ধে প্রাণ হারানোর চেয়েও বেশি তাড়া করছে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধ নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বপরিবারে নিজ দেশে ফিরতে চান তিনি। সম্প্রতি আবু করিম মিশরে এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের কাছে বাংলাদেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। আরবিতে লেখা সেই বার্তায় তিনি তার পরিবারের করুণ পরিণতির চিত্র তুলে ধরে লিখেছেন…
“সর্বশেষ যুদ্ধটি যেন আমার জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে এসেছে। যুদ্ধের কারণে জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের তীব্র সংকটে পড়েছি। পরিবার নিয়ে গাজা থেকে বের হওয়ার জন্য আমি বারবার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত আমার কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি।
গাজায় এখনো প্রকৃত অর্থে যুদ্ধ শেষ হয়নি। চারদিকে ভয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, আর অবরোধও প্রায় পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। আমি এখনো আমার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে গাজা থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছি। গাজার সাধারণ মানুষের মতো আমিও প্রতিদিন নানা ধরনের সংকট ও অভাবের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহই আমাদের সহায়”
মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের সহযোগিতায় কাজ করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হুজাইফা খান জানান, পরিবারটিকে প্রথমে মিশর হয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। পরবর্তীতে জর্ডান হয়ে বাংলাদেশে নেওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য পথ নিয়েও চেষ্টা করা হয়। দুঃখজনকভাবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এমন বাস্তবতায় দেশে ফিরতে সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।
source: Asia Post







