News

চাঁন্দাবিডিডটকমের আত্মপ্রকাশ, দিন গড়াতেই নথিভুক্ত ৯৬ অভিযোগ

চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ দাবি কিংবা কোনো সেবা নিতে গিয়ে আর্থিক হয়রানির ঘটনা নথিবদ্ধ করতে দেশে চালু হয়েছে নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চাঁন্দাবিডিডটকম’। পরিচয় গোপন রেখেই জানানো যাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির তথ্য।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, ওয়েবসাইট চালুর পর তাদের পোর্টালে এখন পর্যন্ত ৯৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে চাঁদা, অবৈধ অর্থ দাবি ও আর্থিক হয়রানির আর্থিক পরিমাণ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের শীর্ষে ঢাকা বিভাগককে দেখানো হয়েছে চাঁন্দাবিডি ডটকমে।

তাদের ওয়েবসাইটের প্রচ্ছদে বলা হয়েছে, কেউ চাইল চাঁদার টাকা। কোথায় চেয়েছিল, মনে আছে। এবার লিখে দিন খাতায়। আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ না করে, প্রয়োজন হলে অভিযোগের তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিসি কার্যালয়, এসপি কার্যালয় ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।

চাঁন্দাবাজডটকমের তথ্য গোপনীয়তা নীতি

চাঁন্দাবাজডটকমের গোপনীয়তা নীতিতে বলা হয়েছে, গোপনীয়তা সবার আগে। আপনার পরিচয় নয়, ঘটনার তথ্যই জরুরি। চাঁন্দাবিডি কোনো নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর বা লগইন তথ্য চায় না। আমাদের রিপোর্ট ডেটাবেজেও কোনো পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। প্রমাণের ছবি প্রকাশের আগে মডারেটর পর্যালোচনা করেন। অনুমোদিত হলে সেটি প্রকাশিত রিপোর্টের সাথে দেখানো হয়; পরিচয় শনাক্তকারী কোনো তথ্য থাকলে তা বাদ দেওয়া হয়।

তিনটি ধাপে কাজ করে চান্দাবিডিডটকম

ঘটনাটি নথিভুক্ত করুন: এলাকা, সেবা, আনুমানিক অঙ্ক এবং ফলাফল বেছে নিন। কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করবেন না।

প্রকাশের আগে নিরাপত্তা যাচাই: ব্যক্তিগত তথ্য এবং স্পষ্ট অপব্যবহার বাদ দিতে জমাগুলো মডারেশনের সারিতে যায়।

প্যাটার্ন অনুসন্ধানযোগ্য থাকে: অনুমোদিত রিপোর্টগুলো বিভাগ, সেবা, অঙ্ক ও ফলাফল অনুযায়ী পাবলিক হয়ে যায়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘চাঁন্দাবিডিডটকম’ চালুর তথ্য জানিয়েছে উদ্যোক্তারা। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েবসাইটের পাবলিক লেজারে ৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া বা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে তারা।

তারা জানায়, জমা পড়া অভিযোগগুলোর একটি টঙ্গী পৌরসভা কার্যালয়কে ঘিরে। সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিযোগটির স্বাধীন যাচাই হয়নি।

মিরপুরের ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজের সময় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একজন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ওই নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানও হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্ব শেওড়াপাড়ায় সড়ক উন্নয়নকাজের সময় পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর তা পুনঃসংযোগের বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা করে দাবির অভিযোগ রয়েছে। পল্টন এলাকায় সিটি করপোরেশনের রসিদ ব্যবহার করে প্রতি মাসে ময়লার বিলের নামে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, বিদেশের নাগরিক-রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ধারণা এবং ঘুষের অভিযোগ নথিবদ্ধ করার ‘ঘুষ ডট সাইট’-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘চাঁন্দাবিডিডটকম’ তৈরি করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটিতে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি দেখানো, নির্মাণকাজ বা ব্যবসার ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ চাওয়ার মতো ঘটনার তথ্য জমা দেওয়া যাবে। অভিযোগের সঙ্গে স্থান, সময়, ঘটনার ধরন, সংশ্লিষ্ট খাত, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো অভিযোগকে যাচাই করা অপরাধ, তদন্তের ফলাফল কিংবা আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত নাগরিকদের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চল বা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশি আসছে, সে সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগ প্রকাশের আগে মডারেশনের মাধ্যমে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কারও ব্যক্তিগত ঠিকানা, ফোন নম্বর বা অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রকাশ ঠেকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।

‘চাঁদাবিডি ডটকম’-এর উদ্যোক্তাদের দাবি, কাউকে হেয় করা বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা দায়িত্বশীলভাবে সংরক্ষণ, জনসচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে সমস্যার ধরন তুলে ধরাই প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য।

source: Asia Post

Back to top button