অর্থনীতি

ক্রমবর্ধমান মন্দ ঋণের চাপে চীনের ব্যাংকগুলো

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির অর্থনীতি চাপ সৃষ্টি করেছে চীনের ব্যাংকগুলোর ওপর। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটির ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের চেয়ে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দশমিক শূন্য ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। গতকাল বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে চায়না ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন (সিবিআইআরসি)। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, মন্দ ঋণ বেড়ে যাওয়ার ধারা চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) অব্যাহত থাকতে পারে। খবর ব্লুমবার্গ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। জানুয়ারির প্রথম দিকেই তা চীনে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। অতিমাত্রায় সংক্রামক হওয়ায় চীন থেকে যেন এ ভাইরাস অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সেখান থেকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বের বহু দেশ। বাতিল করা হয় একের পর এক ফ্লাইট। বন্ধ হয়ে যায় চীনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্য। চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন কার্যক্রম। সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।

ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারছে না ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আর এতে বিপাকে পড়েছে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ সরবরাহকারী ব্যাংকগুলো। বাড়ছে মন্দ বা খেলাপি ঋণের বোঝা।

সিবিআইআরসি এমন এক সময় এ তথ্য প্রকাশ করল, যখন চীনের ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ৮৮ হাজার কোটি ইউয়ান (১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) ঋণ পরিশোধের জন্য বাড়তি সময় প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না লিমিটেডসহ অন্য ব্যাংকগুলো চলতি বছর তাদের মুনাফায় বড় সংকোচনের আশঙ্কা করছে। আর এর প্রধান কারণ নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতা। চলতি মাসের শুরুতে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে ঋণের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউয়ান (২৩ হাজার কোটি ডলার)। অর্থাৎ ঋণঝুঁকিজনিত কারণে চলতি বছর এ পরিমাণ অর্থ বেশি হারাতে হতে পারে চীনা ব্যাংকগুলোকে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সতর্ক করে বলেছে, বাড়তি এ লোকসান ব্যাংকগুলোর মুনাফা সক্ষমতা ও মূলধন ভিত্তিকে চাপে ফেলে দিতে পারে।

শুধু এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালই নয়, জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি ও ওয়েলস ফার্গো অ্যান্ড কোম্পানি গত সপ্তাহে জানায়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ঋণ খাতে চীনের ব্যাংকগুলোকে গত এক দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনতে হতে পারে। দেশটির শীর্ষ ব্যাংকগুলোর আগামী মঙ্গলবার প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।

মহামারী প্রতিরোধে সৃষ্ট লকডাউন পরিস্থিতিতে চীনের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পতন থেকে তাদের টেনে তোলার জন্য দেশটির সরকার ব্যাংকগুলোকে আরো বেশি ঋণ সরবরাহের জন্য চাপ দিচ্ছে।

অবশ্য করোনার প্রকোপ সর্বোচ্চ থাকার

সময়েও ঋণ সরবরাহ বন্ধ করেনি চীনের ব্যাংকগুলো। বরং চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন করে ৭ লাখ ১০ হাজার কোটি ইউয়ান (১ লাখ কোটি ডলার) ঋণ বিতরণ করেছে তারা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।

সিবিআইআরসির চিফ রিস্ক অফিসার জিয়াও ইউয়ানকি আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মন্দ ঋণ বেড়ে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে সিবিআইআরসি জানিয়েছে, বাজারকেন্দ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কিছু মাঝারি ও ছোট আকারের ব্যাংককে পুনর্গঠনের খসড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তারা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *