News

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ইরান-ওমানের চুক্তি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্থান নির্ধারণে একটি যৌথ সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। দু’দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বৈঠক করে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক রুটটির ভৌগোলিক সীমানা চূড়ান্ত করেছেন। চুক্তি সম্পর্কিত কারিগরি, আইনি, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করে খুব শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে।

এই যৌথ সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো প্রণালীর মাঝামাঝি অংশে একটি বিশেষ ‘মিডল করিডোর’ বা মধ্য করিডোর তৈরি করা। ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই করিডোরের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করবে। তবে তেহরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত জলপথটি বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘ কনভেনশন মেনে এই প্রণালীতে সব দেশের অবাধ চলাচলের অধিকার দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো। অন্যদিকে, তেহরান এই জলসীমার ওপর নিজস্ব সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট ফি আদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতিতে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এই আলোচনায় মার্কিন সম্পৃক্ততা নিয়ে দু’পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণ অস্বীকার করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আলোচনাটি তাদের অংশগ্রহণে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জলপথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার তাগিদ দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের প্রথমার্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় ইরান। বৈশ্বিক মোট খনিজ তেল পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল, যা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

source: Rajneete

Back to top button