News

দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চলেও রুশ নির্বাচন, মস্কোয় ড্রোন হামলা ইউক্রেনের

রাশিয়ায় তিন দিনের স্টেট দুমা তথা জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনে ইউক্রেনের দখল করা চার অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া থেকে ভোট নেওয়া হয়েছে। কিয়েভ এ নির্বাচনকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউরোপীয় কমিশনও বলেছে, দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার নির্বাচন আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

রাশিয়ার জন্য এবারের নির্বাচন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যুদ্ধবিরোধী একমাত্র নিবন্ধিত দল ইয়াবলোকোকে কার্যত এ নির্বাচনি লড়াই থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। বিরোধী কয়েকজন নেতা কারাগারে বা নির্বাসনে রয়েছেন।

ফলে নির্বাচনটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুতিনের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত কয়েক মেয়াদের মতো এবারও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্লামেন্টে আধিপত্য ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নির্বাচনের মধ্যেই রাশিয়ার ভূখণ্ডে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এক রাতে এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়েছে। মস্কোর দিকে যাওয়া হামলাগুলোর মধ্যে কিছু রাশিয়ার রাজধানীর কাছে পৌঁছায়। হামলায় দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হওয়ার খবর এসেছে। একটি তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি।

পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া বড় ধরনের অগ্রগতি করছে— মস্কোর এমন দাবিও এখন প্রশ্নের মুখে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালে ইউক্রেনে পাঁচ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ও ২২০টির বেশি বসতি দখলের দাবি করেছে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলছে, তাদের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী রুশ বাহিনী এ বছর নিশ্চিতভাবে দখল করেছে প্রায় ১৪৮ বর্গকিলোমিটার, বরং ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ৯৭৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। অবশ্য সংস্থাটি নিজেই উল্লেখ করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য যাচাই করা কঠিন এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের জন্য ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার, কাউন্টার-ড্রোন রাডার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম রয়েছে।

এর মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল বিতর্ক। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দুজনই বক্তব্য দেবেন।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আনতে পারেনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে আছে দখলকৃত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

জাতিসংঘে এবার কৃষ্ণসাগরও গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হতে পারে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, কৃষ্ণসাগরে কার্যত অবরোধের কারণে ইউক্রেন ও রাশিয়ার খাদ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও তা সরাসরি যুক্ত।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা

source: Rajneete

Back to top button