পুতিনের প্রাসাদের কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, বহু হতাহত

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরের উপকূলে জনপ্রিয় সৈকত গেলেনঝিকে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। বিকট বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত তিন শিশুসহ সাতজন নিহতের খবর জানিয়েছে বিবিসি। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। গেলেনঝিকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি প্রাসাদ রয়েছে। তবে সেটি অক্ষত রয়েছে।
কৃষ্ণসাগরের তীরেই গেলেনঝিকের আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রাম। সমুদ্রসৈকত আর মনোরম প্রকৃতির টানে প্রতি বছর গ্রীষ্মে এখানে ভিড় জমান হাজার হাজার পর্যটক। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সমুদ্রে গোসল করছিলেন অনেক পর্যটক।
রিসোর্টেও ছিলেন কয়েক শত পর্যটক। সেই সময়েই ড্রোন হামলা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকত ঘেঁষা একটি রিসোর্টে আনন্দ করছেন পর্যটকরা। হঠাৎ একটি ড্রোন এসে আছড়ে পড়ে সেখানে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ। তার পরেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন অনেকে। সমুদ্র ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন পর্যটকরা। ওই ভিডিওতে বিস্ফোরণের আগে টানা গুলির শব্দও শোনা গেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ড্রোনটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। হামলার পরেই উদ্ধারকাজ শুরু করে রাশিয়ার সেনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে।
আর্খিপো-ওসিপোভকার পর্যটক ও বাসিন্দারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ড্রোন হামলার আগে কোনো সাইরেন বাজেনি। ইউক্রেনের কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল দাবি করেছে যে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ফলে ড্রোনটির সংকেত জ্যাম হয়ে যাওয়ায় এটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার কথা বলেছিল। এখন তারাই সন্ত্রাসী হামলায় মদদ দিচ্ছে।’
গেলেনঝিকের কাছে পুতিনের প্রাসাদ ‘পুতিনস প্যালেস’-ও রয়েছে। সেটাই ইউক্রেনের আসল লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে এ নিয়ে মুখ খোলেনি রাশিয়া।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে কিয়েভে কূটনীতিকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধ থামানোর কোনও সদিচ্ছা নেই।’
তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘ইউক্রেন শান্তি চায়। এই যুদ্ধ আমরা একদিনের জন্যও চাইনি।’
রাশিয়া আলোচনায় বসবে, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তবে নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ আর লাগাতার হামলা চালিয়েই তারা মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
source: Asia Post







