News

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, ১১ ভারতীয়সহ ১২ ক্রু আহত

হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এক হামলায় পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার ১২ জন ক্রু আহত হয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক। তারাসহ আহত সবাই ওমানে চিকিৎসাধীন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তেলের ওই ট্যাংকারে মোট ১৯ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয় নাগরিক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এমটি পিস নামের তেল ট্যাংকারটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওমানি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আহত ক্রুদের জাহাজ থেকে নামিয়ে ওমানের খাসাব শহরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যিক নৌবহরের জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে হামলায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, গত মাসেও একই এলাকায় একটি কার্গো জাহাজে হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অঞ্চলে জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে অভিহিত করেছে। এই রুটকে নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই অস্থিরতার সূত্রপাত মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই। সেদিন থেকেই ইরান কার্যত এই নৌপথটি বন্ধ করে দেয়, যেটি কি না সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে থাকে। হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ হেয়ে গেলে এর ধাক্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাতই টালমাটাল হয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালি কেবল বন্ধ রাখা হয়, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা জাহাজগুলোও ওই সময় থেকে নিয়মিত হামলার শিকার হতে থাকে। ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে বা নির্ধারিত রুট থেকে সরে গিয়ে চলাচল করা বেশকিছু জাহাজ সেখানে হামলার শিকার হয়।

ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের বিপরীতে পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ জারি করে। সেখানে আবার মার্কিন বাহিনী তাদের আদেশ অমান্য করা জাহাজগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান চেয়ে এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন, নাবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক এই জলপথটি দিয়ে চলাচল ও বাণিজ্য যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করতে হবে।

source: Rajneete

Back to top button