উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান অপরিবর্তনীয়, আইএইএ-এর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয় এবং তাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষমতা সুরক্ষিত।
আইএইএ-এর সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত ওই প্রস্তাবে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করা হয়েছিল। একে পশ্চিমাদের ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার (ডিপিআরকে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা এমন প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক ক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শক্তিশালী বোন কিম ইয়ো জং পৃথক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দ্বৈত মানদণ্ডের তীব্র অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মূল কারণ হলো আইএইএ-এর এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।”
কিম ইয়ো জং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যখন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার এবং পরমাণুচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা করছে, তখন আইএইএ চোখ বন্ধ করে রেখেছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার ‘আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ’ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বলপূর্বক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, আইএইএ-এর সাথে এই বিরোধের মধ্যেই কিম জং উন সম্প্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রস্তুতকারী কারখানা পরিদর্শনে তিন দিনের সফর সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারকর্মীদের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি আধুনিক ‘আদর্শিক যুদ্ধ’ পরিচালনায় উদ্ভাবনী ও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে মস্কোর কারিগরি সহায়তায় পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক আধুনিকায়ন আনছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরীয় সেনাদের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও এই সামরিক পরিবর্তনকে বেগবান করেছে।
পিয়ংইয়ংয়ের এই কড়া অবস্থানের মাঝেই ওয়াশিংটন ও সিউলের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই আলোচনার পথ সুগম করতে কাজ করবে।
নিজের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। তিনি মনে করেন কিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে আনুমানিক ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
source: Rajneete







