রংপুর অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ আজ, পাঁচ স্থানে হবে পথসভা

আট দফা দাবিতে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা হবে।
লংমার্চ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে তারা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করবেন। তিনি নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিকে যুক্ত করার ফলে মোট দাবি আটটি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লংমার্চের রুটে থাকা জেলা ও মহানগর শাখাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত পথে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। বগুড়ার মাটিডালী বিমানমোড়েও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এর আগে ছয় দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করা হয়েছিল। পরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হওয়ায় রংপুর অভিমুখী কর্মসূচিতে দাবির সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হবে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। যানবাহনের চলাচল ও দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদেরও উসকানিতে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রতিশোধের পরিবর্তে লংমার্চ সফল করাকেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চ সফল করতে সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, পথচারী, চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতা চেয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।
এর আগে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
source: Asia Post







