News

মার্কিন পার্লামেন্টে বিল পাস: ভারতসহ ১০ দেশের পণ্যে ১০০% শুল্কের ঝুঁকি

ইউক্রেন যুদ্ধের রেষ ধরে রাশিয়ার ওপর আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি পরিষদ) ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ সম্পর্কিত প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। ৪২১ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভোটাভুটিতে ২৬২টি সাপোর্ট ভোট পেয়ে বিলটি অনুমোদন পায়। উচ্চকক্ষ সিনেটে আগেই পাস হওয়া এই বিলটিতে এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর বাকি। তিনি বিলে সই করলেই তা কার্যকর আইনে পরিণত হবে।

বিলটি পাসের ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে পড়েছে ভারতসহ ১০টি দেশ।

বাকি দেশগুলো হলো— চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।

এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, গত কাল বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে এমপিদে ভোটের জন্য বিলটি উত্থাপন করা হয়। পরিষদের ৪৩৫ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৪২১ সেই বিলটির ওপর ভোট দেন। ভোটাভুটির পর দেখা যায়, বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৬২ জন এমপি এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫৯ জন এমপি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আগেই পাস হয়েছিল ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’। বুধবার নিম্নকক্ষে পাসের পর এখন বিলটি যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করামাত্র কার্যকর আইনে পরিণত হবে সেটি।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল বক্তব্য হলো— ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করছে, তারা আসলে এ যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে শক্তিশালী করছে। এ কারণে রাশিয়ার কাছ থেকে যেসব দেশ নিয়মিত বিপুল পরিমাণে তেল ক্রয় করছে, শাস্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেসব দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবে ওয়াশিংটন।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রস্তাবক বা প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক।

গত ৭ আগস্ট ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলটি পাস হয় সিনেটে। তার মাত্র ৪ দিন পর ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান লিন্ডসে গ্রাহাম।

source: Rajneete

Back to top button