শিশুর চিকিৎসায় কৃতজ্ঞ বাবা, চিকিৎসককে দিলেন গোল্ড মেডেল

খাট থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর খিঁচুনিতে আক্রান্ত ১৩ মাস বয়সী ছেলেকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে স্থিতিশীল করেছিলেন চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাসপাতালে গিয়ে তার গলায় গোল্ড মেডেল পরিয়ে দিয়েছেন শিশুটির বাবা মাহমুদ হাসান।
ঘটনাটি মানিকগঞ্জের। ১৬ সেপ্টেম্বর জেলার মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত সাহাকে পরিবারের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জের জাগীর ইউনিয়নের দেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ হাসান জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে খাট থেকে পড়ে যায় তার ১৩ মাস বয়সী ছেলে মুনতাসীর। এরপর শিশুটির বমি ও খিঁচুনি শুরু হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলা হয়। পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে থাকে। মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়ার পাশাপাশি খিঁচুনিও বাড়ছিল। এমন অবস্থায় ঢাকায় রওনা না হয়ে ছেলেকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান মাহমুদ।
সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত সাহা শিশুটির ওজন অনুযায়ী খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে বলে জানান তার বাবা।
মাহমুদ হাসান বলেন, ‘মুনতাসীর আমার একমাত্র সন্তান। বিয়ের আট বছর পর এই সন্তানের জন্ম হয়েছে। মাত্র ১৩ মাস বয়স। চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছি। এ ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাই চিকিৎসককে সম্মান জানাতে এসেছি।’
চিকিৎসককে গোল্ড মেডেল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই সরকারি হাসপাতালে গিয়েও আমার সন্তানকে জরুরি চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখানে এসে চিকিৎসা পেয়েছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই তাকে সম্মাননা দিতে এসেছি।’
একই সঙ্গে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবার মান ও সমন্বয় আরও উন্নত করার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জয়ন্ত সাহা বলেন, শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল এবং তার খিঁচুনি হচ্ছিল। ওজন নির্ণয়ের পর দ্রুত খিঁচুনি কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তার হিসেবে আমার দায়িত্বটুকুই করেছি। কখনোই চাই না কোনো শিশু এ ধরনের অবস্থায় আসুক। তবে এমন পরিস্থিতিতে এলে জরুরি বিভাগে যতটুকু সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে স্থিতিশীল করা হয়েছিল। পরে ঢাকায় সিটি স্ক্যান করানোর পর গুরুতর কোনো ক্ষতি ধরা পড়েনি।
চিকিৎসককে দেওয়া সম্মাননাকে একজন অভিভাবকের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, এটি শুধু একজন চিকিৎসকের নয়, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্মিলিত কাজেরও স্বীকৃতি।
source: Asia Post







