ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থান করে দেশটির তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে রোববার এ কথা বলেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আয়ারল্যান্ডে বৈঠকের পাশাপাশি গলফ খেলা দেখার কথা রয়েছে ট্রাম্প। আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এ বছরই শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘পরপরই’ যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো’ দ্রুত নিচে নেমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এসব বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তির পাশাপাশি দেশটির তেলসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থানের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে তেলের বাজারেও এরই মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠেয় একটি বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্প বলেন, তিনি কেবল ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান। যে চুক্তি ভালো হবে না, তিনি তাতে যাবেন না। তার দাবি, ইরান শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য ‘প্রতিনিয়ত’ যোগাযোগ করছে। তবে এর আগে তেহরান ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার ইরান নিয়ে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেটি হলো, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বজায় রেখে দেশটিতে অবস্থান করা। এ প্রসঙ্গে তিনি গত আগস্টে ঘোষিত ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল নিজেদের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে ‘অনেকবার যুদ্ধের খরচ’ মেটানো হয়ে গেছে।
source: Rajneete






