News

অনেক কষ্টে করা নতুন রাস্তা ওয়াসাকে কাটতে দেব না: ডিএসসিসি প্রশাসক

অনেক কষ্টে ও বিপুল পরিশ্রমে নির্মিত নতুন রাস্তা হুট করে ওয়াসাকে কাটতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

ওয়াসাকে রাস্তার বিকল্প পথ খোঁজার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সমন্বয় না করে হুট করে রাস্তা কাটার যে প্রবণতা, তা বন্ধ করতে হবে। প্রকল্প চলাকালীন পরিকল্পনা না দিয়ে এখন রাস্তা কাটার অনুমতি না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় নালিশ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

​রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড (প্রথম ধাপ) নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

​প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ওয়াসা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় নালিশ করে যে আমি নাকি রোড কাটিংয়ের (রাস্তা কাটার) অনুমতি দিই না। আপনারা এলাকায় খবর নিয়ে দেখুন, এই রাস্তাটা করতে কত কষ্ট হয়েছে! আট ফিটের নিচ থেকে আবর্জনা সরিয়ে মাটি কম্প্যাক্ট করে নিখুঁতভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র কিছুদিন হলো রাস্তাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন যদি পুরো রাস্তা তারা কেটে ফেলে, তবে এলাকার কি অবস্থা হবে? এ জন্য আমরা ওয়াসাকে একটি বিকল্প রাস্তা খোঁজার অনুরোধ জানিয়েছি।

ওয়াসার সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তাদের প্ল্যানিংটা তখনই দেওয়া উচিত ছিল। তাহলে একসঙ্গেই সব কাজ হয়ে যেত। এখন ধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি, যাতে আলাদা আলাদাভাবে সরকারি টাকার অপচয় না হয়।

​প্রকল্পের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ:

পরিদর্শনকালে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, বেড়িবাঁধ রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ইনার সার্কুলার রিং রোডের প্রথম ধাপের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে এটি পোস্তগোলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। প্রথম ধাপের কাজ দ্রুত শেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এর উদ্বোধন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে।

​মোট ৮ লেনের (ওপরে ৪ লেন ও নিচে ৪ লেন) এই ৪.৮০ কিলোমিটার রাস্তার পাশাপাশি এতে ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, ৩টি ভেহিকুলার ওভারপাস, ৩টি ফ্লাইওভার ব্রিজ, ৮টি স্লুইস গেট এবং ২ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পথচারীদের সুবিধার্থে থাকছে ৬টি বাস বে, ৬টি যাত্রীছাউনি এবং ৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ৮টি বড় টাওয়ার স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

পাল্টে যাবে লালবাগ-কামরাঙ্গীরচরের চেহারা:

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট ও পরিবেশগত চিত্র আমূল পাল্টে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। নদীর পাশ দিয়ে ওয়াকওয়ে, বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক ল্যাম্পপোস্ট বসিয়ে এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে।

একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গাকে আবর্জনা ও পলিথিন দূষণ থেকে রক্ষা করার পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কারের একটি স্কিম বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর মাধ্যমে নদীটি তার পূর্বের নাব্য ও রূপ ফিরে পাবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পুরো প্রকল্পের চূড়ান্ত মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হলেও, প্রথম ধাপের কাজ তার আগেই শেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

source: Asia Post

Back to top button