News

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান

ইলিশ মাছ বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ায় ক্রেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডিতে ইলিশ মাছের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে আকর্ষণীয় দামে মাছ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর মাছ সরবরাহ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃত ও প্রতিষ্ঠিত ইলিশ ব্যবসায়ীদের ছবি, ভিডিও ও ব্যবসায়িক পরিচয় অসাধুভাবে ব্যবহার করেও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এতে একদিকে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুনামও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে গত ১৭ আগস্ট জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে ‘ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি ও অনলাইনে প্রতারণা রোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনলাইন বিক্রেতাদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই এবং ভোক্তাদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রেতাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিক্রেতাদের পরিচয় ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে এ ধরনের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইলিশ মাছ কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, ঠিকানা ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামের প্রস্তাবেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই না করে কোনো ধরনের অগ্রিম অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে মাছ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করা যায়।

এ ছাড়া মাছ গ্রহণের সময় ওজন ও মান সরেজমিনে যাচাই করে মূল্য পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন, ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত এবং ক্রেতাকে সঠিক ওজন ও মানসম্পন্ন মাছ সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিটি বিক্রয়ের ভাউচার বা রসিদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচয়, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যবসায়িক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্যও প্রকৃত ইলিশ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button