৩৫ বছর আগে যেভাবে হয়েছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পর এবারও একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভোটে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়।
ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন। তবে ভোটদানে বিরত ছিলেন ছয়জন সংসদ সদস্য।
তারা হলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ওসমান ফারুক ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। এ ছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

১৯৯১ সালে কী ছিল ফলাফল
বাংলাদেশে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।
তখনকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
সেই নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যসহ মোট ভোটার ছিলেন ৩৩০ জন। ভোট দিয়েছিলেন ২৬৪ জন। অর্থাৎ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) কয়েকটি দল ওই নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিল।
দেশে গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারই দলের একক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
এবার বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রার্থী হওয়ায় আবার ভোটের প্রয়োজন পড়ে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে আবদুর রহমান বিশ্বাস ও বদরুল হায়দার চৌধুরীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৮০। এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদের মধ্যে ব্যবধান ১৬৭।
source: Asia Post







