News

প্রতিটি খাবারেই কি বিপদ, কীভাবে নিরাপদ থাকবেন: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাজারের অধিকাংশ খাদ্যপণ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু এবং অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের মতো বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানে দূষিত। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ধরনের প্রতিবেদন আতঙ্ক তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আলাদা আলাদা গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দুধ, মাছ, পানি ও ভোজ্যতেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে; আর ডিম ও মুরগির মাংসে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ফল ও সবজিতে শিষা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর দূষণ পাওয়া গেছে।

এসব দূষণের কারণে খাদ্যপণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক সচেতন মানুষ খাবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ একদিকে এসব খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, অন্যদিকে এসব খাবার খাওয়ার অর্থ শরীরে বিষাক্ত উপাদান গ্রহণ করা, এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

তাই এখন সর্বত্র একটি প্রশ্ন উঠছে, এ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যগুলো খাওয়া বা এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়?

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে পানি, পলি, মাছ, লবণ, কোমল পানীয়, দুধ, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে।

আলাদা গবেষণায় বাংলাদেশে মুরগির মাংস ও ডিমে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।

অন্য গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রিয় বিভিন্ন ফল ও সবজিতে ক্যাডমিয়াম (Cd) ও সিসার মতো বিষাক্ত ভারী ধাতুর উচ্চমাত্রা রয়েছে, যা প্রায়ই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমা অতিক্রম করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের সাধারণ কিছু সবজি ও ফলে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ভারী ধাতু ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ রয়েছে। যা মানুষের জন্য, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জন্য, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

২০২৫ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত একটি গবেষণা এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজশাহী বিভাগের পেয়ারা অতিরিক্ত মাত্রায় ভারী ধাতুতে দূষিত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) যৌথভাবে পরিচালিত এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) অর্থায়নে করা আরেকটি গবেষণার প্রতিবেদন ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনেও ফল ও সবজিতে ক্যাডমিয়াম ও সিসার মতো ভারী ধাতুর দূষণের কথা বলা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। আরও ছোট কণিকা বা ন্যানোপ্লাস্টিক লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পৌঁছে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে প্রচলিত ওষুধ আর কাজ না-ও করতে পারে, যা গুরুতর এমনকি জীবনহানিকর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া ক্যাডমিয়ামযুক্ত ফল বা সবজি দীর্ঘদিন খেলে প্রধানত দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ক্ষতি এবং হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণের ফলে আরও কী কী স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়ে, তা জানতে গবেষণা এখনও চলছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম. মুজাহেরুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘খাদ্যে এ ধরনের দূষণের জন্য মূলত অসাধু উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা দায়ী।’

ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য ও পানীয় অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রখ্যাত এ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিষয়টি এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর ফলে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা মূলত আমাদের শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রতন্ত্র, হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালিসহ স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য ও ওষুধ বা চিকিৎসায় ব্যবহৃত সামগ্রীতে ভেজাল থাকলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই দুটি অপরিহার্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।’

অধ্যাপক মুজাহেরুল হক বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করতে বর্তমানে যে জরিমানার বিধান রয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন দেশে খাদ্যে ভেজালের জন্য কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব ধরনের খাদ্য, পানীয় ও ওষুধে ভেজালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও জঘন্য অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানও বিবেচনা করা উচিত।’

সব শহর, পৌর এলাকা ও উপজেলায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ আরও কর্মকর্তার মাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘খাদ্য ও পানীয়তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা।’

বিভিন্ন গবেষণায় শরীরের বিভিন্ন তরল ও বিভিন্ন অঙ্গের কোষে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, এর ফলে কোষ ও শরীরের অন্যান্য অংশে বিভিন্ন মাত্রার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক, সিসা, ক্যাডমিয়ামসহ খাদ্যের কিছু দূষক মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে তা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে নিরাপদ দোকান থেকে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য খাবার কিনতে হবে।’

গ্রামের মানুষদের নিরাপদ পদ্ধতিতে নিজেদের খাদ্য উৎপাদনের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সরকারকে সতর্ক থাকতে এবং খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিষয়ে উৎপাদকদের সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট ভোগ্যপণ্যের অবস্থা জানতে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে হবে এবং অর্থায়ন বাড়াতে হবে। খাদ্য ও পানীয়তে এ ধরনের দূষণের পরিণতি মূল্যায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বা লংগিচুডিনাল গবেষণা প্রয়োজন।’

পুষ্টিবিদরা যা বলছেন

বাংলাদেশ নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস সোসাইটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ তাহমিয়া বিনতে সারওয়ার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রতিদিনের খাবার নিয়ে উদ্বেগজনক কোনো খবর শুনলে মানুষের ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনো খবর প্রচারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেকের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।’

তাহমিয়া বলেন, ‘খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা আর্সেনিক, সিসা কিংবা পারদের মতো ভারী ধাতু রয়েছে, এমন খবর শুনলে উদ্বিগ্ন হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে ভালো খবর হলো, কোনো খাবারে কোনো উপাদানের সামান্য পরিমাণ উপস্থিতি থাকলেই তা সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার জন্য বিপজ্জনক হয়ে যায় না। স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ভর করে ওই পদার্থটি কী, আপনি কতটা গ্রহণ করছেন এবং কতদিন ধরে এর সংস্পর্শে থাকছেন তার ওপর। ভয়ের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্য পুরোপুরি বাদ দেওয়া শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে বরং বেশি ক্ষতি করে।’

পুষ্টিবিদ বলেন, ‘ফল, দুধ, মাছ, মাংস ও ডিমের মতো পুরো খাদ্যগোষ্ঠী এড়িয়ে চললে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হয়।’

এর পরিবর্তে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাদ্যপণ্য কেনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের খাবার খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং একই সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট দূষকের অতিরিক্ত সংস্পর্শে আসার সামগ্রিক ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।’

তিনি বলেন, রান্নাঘরে সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও পরিবারের সদস্যদের প্রতিদিনের ব্যাকটেরিয়া ও খাদ্যবাহিত বিষক্রিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

তাহমিয়ার পরামর্শ, খাবার পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ধুতে হবে, কাঁচা মাংস রান্না করা খাবার থেকে আলাদা রাখতে হবে, খাবার ভালোভাবে রান্না করতে হবে এবং অবশিষ্ট খাবার দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।

তাহমিয়া বিনতে সারওয়ার আরও বলেন, ‘আপনি যদি খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা ভাবেন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে চান, তাহলে আগে একজন ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করুন।’

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা যা বলছেন

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনও কোনো খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

নাজের হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিশেষ করে খাদ্য নিয়ে কোনো ভয়াবহ খবর পেলেই আমাদের সতর্ক হতে হবে। তবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাব বাংলাদেশের পোলট্রি খামার, ডিম ও মুরগির মাংসের ওপর সাড়ে তিন বছরব্যাপী একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে, যা ২০২২ সালে শেষ হয়। আমরা দেখেছি, পোলট্রি খামারিরা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারের বিষয়টি আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘কিছু খবর সত্য হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা দেখা যায়।’

এর আগে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের নামে অনেক পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় মুরগির মাংস রান্না করলে বার্ড ফ্লুর জীবাণু দূর হতে পারে।’

সম্প্রতি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে প্রচারণা কয়েকটি স্থানীয় কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘টুথপেস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ার মতো করে শরীরে প্রবেশ না করায় তা ক্ষতিকর নয়।’

সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারকে তার সব ধরনের সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ যা বলছে

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সদস্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শোয়েব এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের পরীক্ষা করেছি। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সরকারকে সুপারিশও করেছি।’

বিএফএসএর এই সদস্য বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও কৃষকদেরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে মানুষ ঝুঁকিমুক্ত খাদ্য পায়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের ক্ষেত্রে পারদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী নারী ও ছোট শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য মাছ গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড় সামুদ্রিক শিকারি মাছের পরিবর্তে কম পারদযুক্ত ছোট মাছ—যেমন, মলা, ঢাইন, টেংরা এবং রুই, কাতলা বা তেলাপিয়ার মতো মাছ বেছে নেওয়া উচিত।

তারা বলেন, ‘পানির ক্ষেত্রে আর্সেনিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। পান করা, রান্না করা ও খাবার ধোয়ার জন্য সবসময় পরীক্ষা করা নিরাপদ নলকূপের পানি বা ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করতে হবে। রান্নায় দূষিত পানি ব্যবহার করলে খাবারের মাধ্যমে আর্সেনিক গ্রহণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘পাতাযুক্ত শাকসবজি ও শস্যে ক্যাডমিয়াম জমতে পারে। দূষিত মাটিতে উৎপাদিত কিছু শাকসবজি, ধান ও মূলজাতীয় ফসলে এটি জমা হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শস্য ও সবজি সুষমভাবে খেলে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়ামের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো যায়।’

বিভিন্ন রঙের তাজা ও প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া, পরিচ্ছন্নভাবে রান্না করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভয়কে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পথে বাধা হতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

source: Asia Post

Back to top button