News

হুতিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের

ইয়েমেনে ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ দ্রুত বেড়েছে। অন্যদিকে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে বাব-এল মান্দেব প্রণালি ঘিরে সৌদি আরবের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়েছে হুতিরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের কাছ থেকে অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনর্দখল এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

আল-আলিমি বলেন, এতদিন উত্তেজনা কমানোর সব সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় সরকার এখন ‘প্রস্তুতির পর্যায় থেকে অভিযানের পর্যায়ে’ যাচ্ছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক ইউনিটকে অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্রও হুতিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের বাহিনী তায়েজ প্রদেশে হুতিদের অবস্থান, যোদ্ধা, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে তিন ঘণ্টায় ২০টি বিমান হামলা চালানোর কথা জানায়। এর আগেও তায়েজের আশপাশে তীব্র লড়াই হয়েছে।

কীভাবে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের বড় মোড় আসে ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। পরের বছর হুতিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও তা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় এবং চলতি বছর সংঘাত ফের তীব্র হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে এবং কৌশলগত বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে মোখা বন্দরনগরী দখলের পর হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও তাদের অগ্রসর হওয়ার খবর আসে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুতিদের অগ্রগতির জবাবে সৌদি আরবও বিমান হামলা বাড়িয়েছে। হুতিরা পালটা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

২০১৪ সাল থেকে চলা যুদ্ধ এরই মধ্যে ইয়েমেনকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে ফেলেছে। নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হলে তায়েজসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লড়াই আরও ছড়িয়ে পড়া এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাব এল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

source: Rajneete

Back to top button