নেপাল-তিব্বতে হিমবাহ প্রলয়ঙ্করী বন্যা: মৃত্যু বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বিপর্যয় নেমে আসার এক সপ্তাহ পার হলেও দুই দেশ মিলিয়ে এখনো অন্তত ৪ হাজার ৭৫৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেবল নেপাল অংশেই ১ হাজার ২০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন। দেশটির সীমান্তবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলাতেই প্রায় ১৬ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভোতেকোশি নদীর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই চলছে উদ্ধার অভিযান। সেখানে সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা আবর্জনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
অপরদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়নাডেইলি জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হড়পা বানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লেন্দে উপত্যকায় লাংটাং লিরুং পর্বতের একটি বিশাল হিমবাহ ধসে নদীতে পড়লে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের উৎপত্তি হয়। এর ফলে সৃষ্ট প্রবল জলোচ্ছ্বাস ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেমে এসে লোকালয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। হিমবাহ ধসের মুহূর্তটিতে ৪.৪ মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিকম্প মনে হলেও পরবর্তীতে ভূ-তাত্ত্বিকরা এটি হিমবাহ ধসের প্রভাব বলে নিশ্চিত করেন।
প্রলয়ঙ্করী এই বন্যায় নেপালের উত্তরাঞ্চলের ৪১টি কংক্রিটের সেতু পুরোপুরি ভেসে গেছে। কেবল নুয়াকোট জেলাতেই ধ্বংস হয়েছে ১ হাজার ২৬৭টি ঘরবাড়ি। এমন বিপর্যয়ের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সংকটটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
source: Rajneete







