News

উপদেষ্টা হুমায়ুনের দূরদর্শী উদ্যোগে বিশ্বমঞ্চে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতির জটিল সমীকরণে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন নতুন আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্ব, ‘কৌশলগত স্বকীয়তা’ এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পররাষ্ট্রনীতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের এই আন্তর্জাতিক রূপরেখাকে বিশ্বমঞ্চে কার্যকরভাবে রূপ দেওয়া এবং ঢাকার অবস্থানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। এমনটাই দাবি কূটনৈতিক সূত্রগুলোর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিশ্বমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী দক্ষতার সমন্বয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয় দেখভাল করা হুমায়ুন কবিরের এই গতিশীল নেতৃত্ব। তার ধারাবাহিক উদ্যোগে প্রথাগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ব সংযোগ এক নতুন যুগান্তকারী মোড় নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান এখন অনেকটাই সংহত। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্বে কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে না গিয়ে ‘কৌশলগত স্বকীয়তা’ বজায় রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এই দুই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ওআইসি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক ভারসাম্য ও ‘ভূ-অর্থনীতি’ (জিও-ইকোনমিক্স) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে সভাপতি পদে সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে শুরু করে বড় বড় পরাশক্তির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনাই প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ এখন এক আস্থাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে নিজের ভিত্তি মজবুত করছে।

আরো পড়ুন

বিশ্বমানের সুউচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি

জানা গেছে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের আধুনিক ডিপ্লোমেসি ও নীতিনির্ধারণী সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হলো তার বৈশ্বিক মানের একাডেমিক ইতিহাস। সিলেটের ওসমানীনগরের সন্তান হুমায়ুন যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই দীর্ঘ সময় শিক্ষা, রাজনীতি ও পেশাগত জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে রাজনীতিতে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম জিএমপি কোর্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রশাসন ও জননীতি নিয়ে কাজ করেন।

আরও জানা যায়, পেশাগত জীবনে হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। প্রথমে তিনি বরিস জনসনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক নতুন মাত্রা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাস্থ কূটনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ঢাকা-ওয়াশিংটন ও ঢাকা-ব্রাসেলস সম্পর্কে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’, ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, উচ্চপ্রযুক্তি খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে যৌথ অংশীদারত্বের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা গৃহীত হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ কোনো রাজনৈতিক অক্ষের অনুগামী না হয়ে স্বকীয় অবস্থান থেকে একটি মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার (জিএসপি) বজায় রাখা, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে নতুন যৌথ উদ্যোগের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত একক কোনো ব্লকের ওপর নির্ভর না করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রক্ষা করাই আমাদের অন্যতম কৌশল হওয়া উচিত। এর লক্ষ্য হলো—প্রথাগত বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি, উচ্চপ্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো। পররাষ্ট্রনীতিতে এই বিষয়গুলো অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখতে হবে।

জাতিসংঘের বিজয় ও ‘বিগ ডিল মেকার’ কূটনীতি

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতি পদ লাভ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সাইপ্রাস যেখানে বিগত ৯ বছর ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিল, সেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের স্বল্প সময়ের সুচিন্তিত স্ট্র্যাটেজি, ব্যক্তিগত বৈশ্বিক যোগাযোগ ও বিচক্ষণ ডিপ্লোমেসিতে বাংলাদেশ বিপুল ভোটে জয় ছিনিয়ে আনে। আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

কৌশলগত ভারসাম্য ও ‘মাল্টি-পোলার’ পার্টনারশিপ

জানা গেছে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিশ্ব রাজনীতিতে একক কোনো ব্লকের ওপর অতিনির্ভরশীলতা এড়িয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ওপর ভিত্তি করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কূটনীতির পথ উন্মোচন করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে—কৌশলগত কূটনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের বৈষম্য নিরসনে সমতা ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্পষ্ট বার্তা, প্রথাগত সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), নতুন রপ্তানি বাজার ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সহায়তার সুযোগ উন্মুক্ত করা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখা এবং দেশের লজিস্টিকস ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থায় কর্মরত বিশ্বমানের প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের জাতীয় নীতি নির্ধারণে সরাসরি যুক্ত করা।

রোহিঙ্গা সংকট ও জাতিসংঘে ভূমিকা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং এই আঞ্চলিক সংকটের টেকসই সমাধানে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেবল মানবিক সহায়তার আওতায় আটকে না রেখে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের ওপর বিচারিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল জোরদার করা হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুচিন্তিত পররাষ্ট্রনীতি এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের প্রজ্ঞা ও বিশ্ব সংযোগ গড়ে তোলার একচ্ছত্র উদ্যোগ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্বে নিজেদের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ব সংযোগের এই নতুন দিগন্ত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও প্রভাবশালী করে তুলবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।

source: Asia Post

Back to top button