News

হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ইয়েমেন সরকারের ৩০ সেনা নিহত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সামরিক শিবিরগুলোতে চালানো এ হামলাকে ২০২২ সালের পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইয়েমেনের জরুরি বাহিনীসহ সরকারি বাহিনীর কয়েকটি সামরিক শিবিরে এই হামলা চালানো হয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি বাহিনীর ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এটি হুথিদের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া।

সামরিক সূত্র জানায়, হুথিরা মারিবের উত্তরে আল-জাওফ প্রদেশ থেকে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রউক এলাকায় থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।

আলজাজিরার ইয়েমেনবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আল-শালাফি জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে হামলাটি চালানো হয়। এতে হাদরামাউতে থাকা হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারির শিবিরগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। বিশেষ করে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম থাকায় প্রথম দুটি বাহিনীর ঘাঁটিতে বেশি আঘাত হানা হয়।

ফার্স্ট ইমার্জেন্সি ডিভিশনের কমান্ড জানিয়েছে, হামলার সময় সেনারা প্রশিক্ষণের জন্য একত্রিত থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায় চার বছরের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে।

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করেছে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নিহত সরকারি সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, এ হামলা ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের আরেকটি উদাহরণ।

এদিকে হামলার পর ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জরুরি বাহিনীর সদস্যদের সরকারি শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতির জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের কনসালটেশন অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন অথরিটির উপপ্রধান আবদুল মালিক আল-মেখলাফি বলেছেন, হুথিদের ওপর চাপ বাড়ায় তারা সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের প্রকৃত লক্ষ্য হলো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা।

গত এক মাসে ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সানার বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। পরে সরকারি বাহিনী বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলার দাবি করে, যদিও রিয়াদ জানিয়েছে, হামলাটি প্রতিহত করা হয়েছে।

এরপর ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর তাদের প্রথম বড় সামরিক অভিযান।

source: Asia Post

Back to top button