News

‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে পৌঁছানো হবে’

বিএলআরআই উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন এবং খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই দেশীয়ভাবে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, আজকের আয়োজন শুধু একটি ভ্যাকসিন হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক।

মন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এসব ভ্যাকসিন দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ভ্যাকসিনের আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি যোগ করেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএলআরআই-এর বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণাগারের কোনো উদ্ভাবন যদি সাধারণ মানুষের কাজে না আসে, তবে তার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। তাই গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর করা এবং খামারি পর্যায়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তাই কৃষক ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।

জাটকা ও ইলিশ সংরক্ষণ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বৃদ্ধি, জাটকা নিধন বন্ধ এবং ক্ষতিকর কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশ ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে। ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, যার সুফল খাদ্য ও প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের বাজারে পড়বে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, বিজ্ঞানী, গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

source: Asia Post

Back to top button