News

হরমুজ খুলতে ২ দিনের পরিকল্পনা: যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় ইরান

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য দুই দিনের একটি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দিনে ওয়াশিংটনকে তেহরানের নির্ধারিত কয়েকটি শর্তে পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পরিকল্পনাটি মেনে নিয়েছে বলে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কবে খুলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান প্রথমে প্রণালি খোলার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিল। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তা পাঁচ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। আলোচনার পর সময়সীমা কমিয়ে দুই দিন করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দ্বিতীয় দিনে প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তবে এটি এখনো আলোচনাধীন প্রস্তাব, চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যেতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের জবাবের অপেক্ষায় আছে।

ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে, সম্প্রতি আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জুনে দেওয়া তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও ওমানের আলোচনায় নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

আরাগচি বলেছেন, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার পথও তৈরি হবে।

আলোচনায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতা করছে। ইরানের একটি প্রতিনিধি দল দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কাতারের কর্মকর্তারাও এর আগে তেহরান সফর করেন।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পর্যালোচনা করেছেন। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানের ভাষা বদলেছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে এখনো সতর্কতা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কাতারের নেতৃত্বে যোগাযোগ চলছে, কিন্তু দুই দিনের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, আলোচনা এগোচ্ছে, তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।

আরাগচি আবার পালটা বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী নতুন করে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। তিনি সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন।

আরাগচি বলেন, ইরানের শর্ত পূরণের আগে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজন দেখছে না তেহরান। মধ্যস্থতাকারীরা শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রণালির ক্ষেত্রে ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নৌপথকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানোয় আগের মতো অবাধ চলাচল ফিরবে, নাকি নতুন নিয়মে জাহাজ চলবে— সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল ও গ্যাসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পথে সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়লে জাহাজের বীমা, পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানির দামেও প্রভাব পড়ে। তাই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে সমঝোতা ছাড়া দুই দিনের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

source: Rajneete

Back to top button