News

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানকে ভ্যান্সের চিঠি, আলোচনায় ফেরার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। চিঠিতে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাবের পাশাপাশি সম্ভাব্য সমঝোতার একটি কাঠামো নিয়েও কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় রোববার চিঠিটি তেহরানে পৌঁছায়। তবে এতে কী বলা হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র বৃহস্পতিবার আধা-সরকারি ফার্স নিউজকে জানিয়েছে, ভ্যান্সের বার্তা পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে তেহরান এখনো এর জবাব দেয়নি।

অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, চিঠিতে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই চিঠির উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবে অগ্রগতি হলে ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে। সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে কাতার ও তুরস্কের নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহায়তার বিষয়েই মূলত এ যোগাযোগ। ভ্যান্স তার মতামত জানতে চাইলে তিনি যোগাযোগের অনুমতি দেন বলেও জানান ট্রাম্প।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, চিঠিটি মূলত আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়— ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। ইরানও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরান আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং তেল বিক্রির সুযোগ চায়।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। দুই পক্ষের এই অবস্থানগত দূরত্বের কারণে আগের সমঝোতার উদ্যোগও এগোতে পারেনি।

এদিকে চিঠি পাঠানোর সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্প সময়ের তীব্র হামলা চালানোর বিকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার বলেছেন, তেহরান এখনো কূটনীতিকে সুযোগ দিচ্ছে। পলে ভ্যান্সের চিঠি দুই দেশের সরাসরি সংঘাত এড়াতে নতুন কোনো চেষ্টা কি না, তা এখন নির্ভর করছে তেহরানের জবাব ও পরবর্তী আলোচনার ওপর।

সূত্র: অ্যাক্সিওস, আলজাজিরা ও আনাদোলু

source: Rajneete

আরো দেখুন
Close
Back to top button