চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে রেকর্ড ৩৩ নেতা বহিষ্কার, অধিবেশনে অনুপস্থিত ৯৭

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে একসঙ্গে রেকর্ড ৩৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম প্লেনারি অধিবেশনে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। একই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ৯৭ সদস্য, যা দেশটির মাও সে তুং-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শেষ হওয়া চার দিনের এ বৈঠক চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে চলমান ব্যাপক রদবদল ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২২ সালে গঠিত কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটিতে পূর্ণ ও বিকল্প সদস্য মিলিয়ে মোট সদস্য ছিলেন ৩৭৬ জন। তবে এবারের প্লেনারি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন ২৭৯ জন। ফলে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন, যা মোট সদস্যের এক-চতুর্থাংশের বেশি।
অনুপস্থিত সদস্যদের অনেকেই দুর্নীতি, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা রাজনৈতিক তদন্তের মুখে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের সবাই কেন বৈঠকে যোগ দেননি, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এবারের অধিবেশনে ৩৩ জন নেতার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সাম্প্রতিক চীনা রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অধিবেশনে এতসংখ্যক নেতার বহিষ্কারের নজির নেই।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া এবং জিনজিয়াংয়ের সাবেক দলীয় প্রধান মা শিংরুই। ঝাংকে একসময় চীনের সামরিক নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়েও শুদ্ধি অভিযানের বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম জানানো হলেও অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন শি জিনপিং। প্রথম দিকে নিম্ন ও মধ্যপর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হলেও পরে তা সেনাবাহিনী, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রাদেশিক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
চীনা সরকারের ভাষ্য, দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূল করাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতেও এ অভিযান ব্যবহৃত হতে পারে।
এবারের প্লেনারিতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বেইজিংয়ে ২১তম পার্টি কংগ্রেস আয়োজনের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কংগ্রেসে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামো ঠিক হবে।
শি জিনপিং আরও এক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বিপুলসংখ্যক সদস্যের অনুপস্থিতি এবং রেকর্ডসংখ্যক নেতার বহিষ্কারকে আসন্ন নেতৃত্ব পুনর্গঠনের সম্ভাব্য পূর্বাভাস হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান ও চীনের সরকারি বিবৃতি
source: Rajneete







