বিক্ষোভের চাপে ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে বড় ছাড়

শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে টানা বিক্ষোভের মুখে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে ফ্রান্সের সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ১৫ হাজার আসন বাড়ানো এবং ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটির বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’ (Parcoursup) বদলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এফপি ও এপির খবরে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থী ও স্কুল-কলেজের সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্ত বলেন, ২০২৭ সাল থেকেই পারকুরসুপে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। পরে ২০২৮ সালে পুরো প্ল্যাটফর্মটি নতুন ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্তের মানদণ্ড যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যও তৈরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় ভর্তির সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাখ্যানের কারণ আরও স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
শুধু ভর্তি ব্যবস্থা নয়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকসংকট, স্কুলের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের অনুদান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সরকার অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আসন এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে।
তবে সরকারের ঘোষণায় আন্দোলন থামেনি। কয়েকটি শিক্ষার্থী সংগঠন কিছু ছাড়কে স্বাগত জানালেও তারা বলেছে, দাবিগুলোর পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে।
গত শনিবার ফ্রান্স জুড়ে চার লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয় বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে।
source: Rajneete







