ইরানে ট্রাম্পের ফের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত, কড়া জবাবের প্রস্তুতি আইআরজিসির

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ (রোববার) থেকেই ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “ওয়াশিংটন ‘আগামীকালই’ (রোববার) ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে, কিংবা তেহরানের সঙ্গে একটি ‘বড় ও চমৎকার’ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।”
এর মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিতে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান মার্কিন কর্মকর্তাদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের অপরিপক্ব আচরণের কারণেই দুই দেশের সমঝোতা প্রক্রিয়া পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে।
তবে চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করতে নারাজ তেহরান। পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমান সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষেরই উচিত আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরেকটি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছিল, তার সাংকেতিক নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর থেকেই চলতি সপ্তাহেই ইরানে নতুন করে হামলার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমিত পরিসরেও কোনো হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বহুগুণ বেশি শক্তিতে।
source: Rajneete






